কিংসমেডোতে অনুষ্ঠিত ইংলিশ উইমেন্স সুপার লিগের ম্যাচে চেলসি নারী দল ৫-০ স্কোরে ওয়েস্ট হ্যামকে পরাজিত করে শিরোপা রক্ষার পথে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে। গেমটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি ১১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এবং চেলসিরা প্রথমার্ধে চারটি গোলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পেছনে ঠেলে দেয়।
স্যান্ডি ব্যাল্টিমোর ম্যাচে দু’টি গোল করে ডাবল স্কোর করেন, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লরেন জেমস এবং আলিসা থম্পসন প্রত্যেকেই এক করে গোল করে স্কোরবোর্ডে নাম লেখাতে সাহায্য করেন। এভাবে চেলসিরা মোট পাঁচটি গোলের মাধ্যমে শূন্যে শেষ করে ওয়েস্ট হ্যামের রক্ষণকে চমকপ্রদভাবে ভেঙে দেয়।
ওয়েস্ট হ্যামের নতুন প্রধান কোচ রিটা গুইরিনোর জন্য এই ম্যাচটি কঠিন সূচনা হয়ে দাঁড়ায়। প্রথমার্ধে চারটি গোলের পর দলটি সম্পূর্ণভাবে পেছনে ঠেলে দেয় এবং রক্ষণে ধারাবাহিক ত্রুটি, চাপের অভাব এবং বলের মালিকানায় অযত্নের ফলে স্কোরে বড় ফাঁক তৈরি হয়। গুইরিনো ডেসেম্বরে পূর্বের কোচ রেহান্নে স্কিনারকে বদলে এই দায়িত্বে আসেন, যখন দলটি লিগের নিচের দুই স্থানে কেবল একটিই জয় অর্জন করেছিল।
ক্লাবের একটি প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে সাম্প্রতিক ফলাফলগুলো প্রত্যাশা পূরণ করেনি এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তে দ্রুত পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে দলটি বার্কলেস উইমেন্স সুপার লিগে অবস্থান উন্নত করতে পারে। গুইরিনো ইতালিতে জুভেন্টাসের অধীনে অর্জিত সাফল্যের জন্য দেশীয়ভাবে সম্মানিত, এবং তাকে তার কৌশল ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম ম্যাচে দেখা গিয়েছে যে ৫৪ বছর বয়সী কোচের সামনে দলকে পুনর্গঠন ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় যে চেলসিরা প্রথমার্ধে চারটি গোলের মাধ্যমে গেমের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে ওয়েস্ট হ্যামের রক্ষণে ধারাবাহিক ত্রুটি এবং মাঝখানে চাপের অভাব স্পষ্ট ছিল। গুইরিনো তার পূর্বের ম্যাচে তিনজন খেলোয়াড়কে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করেন: কাটরিনা গোরি, ইভা নিস্ট্রম এবং ইনেস বেল্লুমু। এছাড়া ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক এস্টেল ক্যাসকারিনও দলে ছিলেন, যদিও তার ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
ওয়েস্ট হ্যাম বর্তমানে লিগের নিচের দিকে লিভারপুলের সঙ্গে লড়াই করছে, এবং এই পরাজয় দলকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। গুইরিনোর জন্য এখন দলের রক্ষণে দৃঢ়তা গড়ে তোলা, মাঝখানে চাপ বাড়ানো এবং বলের মালিকানায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। চেলসিরা এই জয়ে শিরোপা রক্ষার পথে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে এবং পরবর্তী ম্যাচে তাদের আক্রমণাত্মক শক্তি বজায় রাখার লক্ষ্য রাখবে।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে চেলসিরা অতিরিক্ত গোলের মাধ্যমে পার্থক্য বাড়িয়ে দেয়, ফলে ওয়েস্ট হ্যামের জন্য পুনর্গঠন ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গুইরিনোর প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়েছে যে দলটি ত্রুটিমুক্ত রক্ষণ গড়ে তুলতে এবং খেলায় ধারাবাহিকতা আনতে বড় কাজের মুখোমুখি। ভবিষ্যতে গুইরিনোর কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতা উন্নয়ন দলকে লিগের নিচের দিকে ধাক্কা থেকে রক্ষা করতে পারে।
চেলসিরা এই জয়ের মাধ্যমে শিরোপা রক্ষার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছে, আর ওয়েস্ট হ্যামকে এখন লিগের শেষের দিকে লিভারপুলের সঙ্গে লড়াইয়ে মনোযোগ দিতে হবে। উভয় দলের জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে চেলসিরা জয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং গুইরিনো তার দলকে পুনর্গঠন করার জন্য নতুন পরিকল্পনা প্রয়োগ করবে।



