শেরেবাংলা নগরে শ্রীমতি মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদিত হয়েছে। বাজেটের মোট পরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে এবং অনুমোদনের সময়সূচি সোমবার, ১২ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল।
সভা শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ও এনইসির চেয়ারপারসন মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওাহিদ উদ্দীন মাহমুদ এবং অন্যান্য উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মূল এডিপিতে ২,০০,৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, তবে সরকার ১৩.০৭ শতাংশ হ্রাসের মাধ্যমে সংশোধিত বাজেটকে দুই লাখ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে। এই হ্রাসের ফলে মোট ব্যয় পরিকল্পনা পূর্বের তুলনায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা কমে গেছে।
অর্থ বিভাগের ১১ নভেম্বরের চিঠিতে আরএডিপির আকার দুই লাখ কোটি টাকা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১,২৮,০০০ কোটি টাকা হবে, যা মোট বাজেটের ৬৪ শতাংশ গঠন করে। অবশিষ্ট ৭২,০০০ কোটি টাকা বা ৩৬ শতাংশ প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে।
এই আর্থিক কাঠামো দেশের সম্পদ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গৃহীত হয়েছে। সরকারী তহবিলের বড় অংশ নিজস্ব সম্পদ থেকে আসার ফলে ঋণভারের ওপর চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশোধিত আরএডিপিতে মোট ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ২২টি বিভাগের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, ৩৩টি বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয়েছে এবং দুটিতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট আকার দুই লাখ আট হাজার নয়শত তেত্তি কোটি টাকা হয়েছে।
মূল এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া খাতগুলো ছিল পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা, গৃহায়ন এবং স্বাস্থ্য। সংশোধিত পরিকল্পনায় এই তালিকায় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতও যুক্ত হয়েছে, যা এখন সর্বোচ্চ বরাদ্দের শীর্ষে রয়েছে।
আরএডিপিতে সর্বোচ্চ বাজেট পাওয়া শীর্ষ দশটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ, পানি সম্পদ বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ অন্তর্ভুক্ত। এই বিভাগগুলো দেশের অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে মূল ভূমিকা পালন করে।
প্রকল্পের দিক থেকে, সংশোধিত আরএডিপিতে মোট ১,৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মূল এডিপির ১,১৭৩টি প্রকল্পের তুলনায় প্রায় দুইশত পঞ্চানব্বইটি বেশি। নতুন অনুমোদিত ১৩৮টি প্রকল্পের পাশাপাশি ২৩টি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চারটি প্রকল্পকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাজেটের কার্যকারিতা ও অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনার ফলাফল। এই পরিবর্তনগুলো প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী করা হয়েছে।
এনইসি অনুমোদনের পর আরএডিপি সরকারী মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে, যেখানে চূড়ান্ত অনুমোদন ও আইনগত স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য আলোচনা হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নির্ধারিত তহবিলের ভিত্তিতে কাজ শুরু করবে।
এই বাজেট সংশোধন দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে সরকারী ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের পুনর্বিবেচনা রাজনৈতিক আলোচনার একটি মূল বিষয় হয়ে উঠতে পারে, যা নীতি নির্ধারকদের জন্য কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



