28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধের নির্দেশনা জারি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধের নির্দেশনা জারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শারফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের আগে সকল স্কুল ও কলেজে কোনো ধরনের সমাবেশ, সভা অথবা নির্বাচনী প্রচারণা করা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, রিটার্নিং অফিসারের পূর্ব লিখিত অনুমতি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, হলরুম বা অন্য কোনো স্থানকে ভোটার সমাবেশের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত চিঠি রূপে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রচারণার ছদ্মবেশে কিছু প্রার্থী ও তাদের সমর্থক সেমিনার, সংবর্ধনা এবং যুব সমাবেশের আয়োজন করে ভোটারকে একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কার্যক্রমে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়াই মাঠ বা হলরুম ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

চিঠিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো সমাবেশ বা প্রচারণার স্থান হিসেবে ব্যবহার না করার নির্দেশ মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশনা মেনে না চললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রধানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, মাউশি থেকে শীঘ্রই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্দেশনা সকল বিদ্যালয়ের প্রধানকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার দায়িত্ব নিশ্চিত করবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূর্বে কিছু সময়ে নির্বাচনী প্রচারণা ও সমাবেশের জন্য অনুমতি চাওয়া হতো, তবে এখন রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষা করা, যাতে ভোটারদের উপর কোনো অনধিকারিক প্রভাব না পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার শারফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচারণা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে প্রবেশ করে, তবে তা শিক্ষার্থীদের উপর অনিচ্ছাকৃত প্রভাব ফেলতে পারে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা অনুসারে, সকল বিদ্যালয়ের প্রধানকে রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন প্রাপ্ত না হলে কোনো সমাবেশের জন্য স্থান সরবরাহ করা নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনা মেনে চলা না হলে, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়কে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই নির্দেশনার ফলে, নির্বাচনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিকল্পিত যে কোনো সেমিনার, কর্মশালা বা যুব সমাবেশের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। বিদ্যালয়গুলোকে এখন থেকে রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন প্রাপ্ত না হলে কোনো ধরনের ভোটার সমাবেশের আয়োজন করা যাবে না।

শিক্ষা সংস্থার প্রধানরা এই নির্দেশনা মেনে চলতে প্রস্তুত বলে জানান। তারা উল্লেখ করেন, শিক্ষার পরিবেশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করা জরুরি এবং এই নতুন নিয়মাবলী তা নিশ্চিত করবে।

নির্বাচনী কমিশনের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপটি ভোটারদের স্বেচ্ছা ও স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অবশেষে, মাউশি থেকে পাঠানো নির্দেশনা সকল বিদ্যালয়ের প্রধানকে জানাবে যে, রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো সমাবেশ বা প্রচারণা স্থান হিসেবে ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনা মেনে চলা নিশ্চিত করতে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবে।

এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোটারদের উপর অনধিকারিক প্রভাব রোধ করা সম্ভব হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments