ঢাকা, ১১ জানুয়ারি – জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) আজ একসঙ্গে ASYCUDA World‑কে বিজিএমইএর ই‑ইউডি (ইলেকট্রনিক ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই সংযোগের মাধ্যমে রপ্তানি‑মুখী শিল্পের বন্ড ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়িত হবে এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ASYCUDA World আন্তর্জাতিক মানের কাস্টমস স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম, আর ই‑ইউডি হল গার্মেন্ট শিল্পের বন্ড ব্যবহার সংক্রান্ত ঘোষণার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দুটো সিস্টেমের সমন্বয় আজ থেকে কার্যকর হওয়ায় ব্যবহারকারীরা এখন রিয়েল‑টাইমে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন যাচাই করতে পারবে, ফলে কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল বন্ডেড কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্যের ক্লিয়ারেন্সে দীর্ঘদিনের বিলম্ব দূর করা। অনলাইন যাচাই প্রক্রিয়া চালু হলে পণ্য মুক্তি পাওয়ার সময়সীমা হ্রাস পাবে এবং রপ্তানি চেইনের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
সংযুক্তি পূর্বে ইউডি যাচাই মূলত ম্যানুয়াল চেক এবং বিজিএমইএর আলাদা সিস্টেমের নিশ্চিতকরণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেই পদ্ধতি প্রায়শই প্রক্রিয়াগত জটিলতা, পণ্যের রিলিজে দেরি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলত। এখন স্বয়ংক্রিয়, একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনবিআর উল্লেখ করেছে যে নতুন সিস্টেম রাজস্ব ঝুঁকি কমাবে, পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করবে এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সকে দ্রুত ও কার্যকর করবে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পদক্ষেপটি দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
পাইলট পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর এনবিআর ই‑ইউডি রাইট‑অফ প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে রোল‑আউট করার পরিকল্পনা করেছে। এই ধাপে ধাপে রোল‑আউট বন্ড ব্যবহার ও সমন্বয়কে আরও স্বয়ংক্রিয় করবে, ফলে আর্থিক রেকর্ডের নির্ভুলতা বাড়বে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রক্রিয়া সহজ হবে।
গার্মেন্ট শিল্প, যা দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি, এই উন্নয়নের সরাসরি উপকারভোগী হবে। রেডি‑মেড গার্মেন্টের রপ্তানি প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি গঠন করে; দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ফলে উৎপাদন চক্রের সময় কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে।
কাস্টমসের কাগজমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার এই পদক্ষেপটি শুধুমাত্র গার্মেন্ট সেক্টরের নয়, অন্যান্য রপ্তানি‑মুখী শিল্পের জন্যও মডেল হিসেবে কাজ করবে। স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়লে ভবিষ্যতে আরও সেক্টরে অনুরূপ ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সারসংক্ষেপে, এনবিআর ও বিজিএমইএর যৌথ উদ্যোগ দেশের বাণিজ্যিক কাঠামোকে আধুনিকায়িত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। রিয়েল‑টাইম ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে রপ্তানি পণ্যের প্রবাহ দ্রুত হবে, আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকবে। এই উন্নয়ন গার্মেন্ট শিল্পের প্রতিযোগিতা শক্তি বাড়িয়ে দেশের রপ্তানি আয়কে স্থিতিশীল ও বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা তৈরি করবে।



