যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার কিউবাকে ত্বরিত কোনো চুক্তি করার আহ্বান জানিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল পেজে উল্লেখ করেন যে ভেনেজুয়েলান তেল ও আর্থিক সহায়তা কিউবার জন্য আর চলবে না এবং সময়মতো সমঝোতা না করা হলে ফলাফল হবে। এই মন্তব্যের পেছনে গত সপ্তাহে ক্যারাকাসে রাতের আক্রমণে নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযান রয়েছে, যেখানে ভেনেজুয়েলান ও কিউবান নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হয়।
ট্রাম্পের পোস্টে তিনি পূর্বে শেয়ার করা একটি মেসেজের উল্লেখ করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবার প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং তিনি তা “ভালো শোনাচ্ছে” বলে মন্তব্য করেন। এরপর তিনি নিজে একটি নতুন পোস্টে কিউবার দীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক নির্ভরতা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর ছিল বলে জানান। তিনি যোগ করেন, কিউবা পূর্বে ভেনেজুয়েলার দুইটি স্বৈরশাসক শাসকের জন্য নিরাপত্তা সেবা প্রদান করেছিল, তবে এখন তা শেষ।
ট্রাম্পের মতে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে কিউবার অনেক কর্মী নিহত হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলা আর কিউবার সুরক্ষা সেবার প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে ভেনেজুয়েলা আর কিউবাকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজন নেই, কারণ এই হুমকি আর বিদ্যমান নয়। এই বক্তব্যে তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান শাসক মাদুরোর উপর আক্রমণকে উল্লেখ করে কিউবার জন্য আর কোনো আর্থিক বা তেল সরবরাহ থাকবে না বলে স্পষ্ট করেন।
কিউবার অর্থনৈতিক নীতি ২০০০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার অধীনে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি করে চলেছে। এই তেল সরবরাহ মূলত হুগো চাভেজের শাসনকালে স্থাপিত চুক্তির মাধ্যমে হয়, যা ভেনেজুয়েলার তেলকে কিউবার জ্বালানি চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হয়। ট্রাম্পের এই নতুন সতর্কতা কিউবার জন্য তেল ও আর্থিক সহায়তার সম্ভাব্য শেষের ইঙ্গিত দেয়, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কিউবার সরকার এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের মন্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে তেল সরবরাহের হ্রাস কিউবার জ্বালানি ঘাটতি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়াতে পারে। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কিউবার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের পুনর্গঠন বা নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার দরজা খুলে দিতে পারে।
ভেনেজুয়েলার শাসন পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে কিউবার নিরাপত্তা সেবার প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়া এবং তেল সরবরাহের বন্ধের সম্ভাবনা দুটোই কিউবার ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্পের এই সতর্কতা কিউবাকে দ্রুত কোনো চুক্তি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যাতে তেল ও আর্থিক সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
এই পরিস্থিতিতে কিউবার নেতৃত্বকে নতুন অর্থনৈতিক কৌশল গড়ে তুলতে হবে, যার মধ্যে বিকল্প জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কিউবার প্রতি নীতি পরিবর্তন কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



