আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২ (আইসিটি‑২) আজ লাকস্মীপুরে জুলাই ২০২৪ উত্থানের সময় পাঁচজনের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত একটি অপরাধবিরোধী মামলায় মানবিক কারণে এক অভিযুক্তকে জামিন অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তটি উক্ত উত্থান সংক্রান্ত মামলায় প্রথমবারের মতো জামিন প্রদানকে চিহ্নিত করে।
জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন হুমায়ুন কবির পাটওয়ারি, যিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের লাকস্মীপুর সদর ইউনিটের সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে পাঁচজনের হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
হুমায়ুনের স্বাস্থ্যগত অবস্থা জামিনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার রক্ষা দল জানায়, তিনি লিভার সিরোসিসে ভুগছেন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি সেবা প্রয়োজন। এই স্বাস্থ্যগত উদ্বেগকে বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল মানবিক ভিত্তিতে জামিন প্রদান করেছে।
বিচারক মোঃ নোজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল হুমায়ুনের জামিন আবেদন শোনার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। আদালত তার আবেদনকে গ্রহণ করে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে।
শর্তের মধ্যে অন্যতম হল হুমায়ুনকে তার প্রদত্ত বাসস্থানে অবস্থান বজায় রাখতে হবে এবং বাড়ি ছেড়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। এছাড়া তিনি নির্দিষ্ট ঠিকানার বাইরে কোনো স্থান ভ্রমণ করতে পারবেন না।
মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে তার কোনো সংযোগ স্থাপন করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই হুমায়ুনকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলা বা ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
অধিকন্তু, ট্রাইব্যুনাল হুমায়ুনকে প্রমাণের সঙ্গে হস্তক্ষেপ করা, সহ-আসামি বা প্রসিকিউশন সাক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে নিষেধ করেছে। এই শর্তগুলো জামিনের সময়কাল জুড়ে কার্যকর থাকবে।
এই মামলায় হুমায়ুনের পাশাপাশি দুইজন সহ-আসামি শাহীহ আলম এবং মোঃ সালাহউদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে জেলায় আটক আছেন। উভয়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগ বজায় রাখেন এবং একই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত।
আদালতের এই রায়ের পর মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে এবং প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি সাক্ষীদের বিবেচনা করবে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উক্ত উত্থান সংক্রান্ত মামলায় প্রথমবারের মতো জামিনের প্রয়োগ দেখা গেল, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় রেফারেন্স হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে মামলার মূল বিষয়বস্তু ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের ফলাফল এখনও বিচারিক রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।



