জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বন্ড ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সাইকুডা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বিজিএমইএর ই‑ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) পদ্ধতির সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। এই সংযোগের ফলে ইউডি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন ও রিয়েল‑টাইমে রূপান্তরিত হবে, যা কাগজপত্রের ব্যবহার কমিয়ে রাজস্ব সুরক্ষা ও শুল্ক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
এনবিআরের মতে, ই‑ইউডি সংযোগের মূল উদ্দেশ্য বন্ড ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। নতুন পদ্ধতি আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের শুল্ক নির্ধারণে দ্রুততা আনে, পাশাপাশি ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে। ফলে বাণিজ্যিক লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি হবে।
পূর্বে ইউডি যাচাই ম্যানুয়াল ভেরিফিকেশন এবং বিজিএমইএর স্বতন্ত্র সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেই পদ্ধতিতে কাগজের ফর্ম, হাতে লিখিত স্বাক্ষর এবং বহু স্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হতো, যা সময়সাপেক্ষ এবং ত্রুটির সম্ভাবনা বাড়াতো। ই‑ইউডি সংযোগের মাধ্যমে এই ধাপগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একীভূত হবে, ফলে ডেটা ইনপুট থেকে শেষ অনুমোদন পর্যন্ত পুরো চক্রে স্বয়ংক্রিয়তা নিশ্চিত হবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তন বেশ কয়েকটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রথমত, আমদানি‑রপ্তানি সংস্থাগুলো দ্রুত শুল্ক পরিশোধ ও পণ্যের মুক্তি পাবে, যা নগদ প্রবাহে উন্নতি ঘটাবে এবং লজিস্টিক্স খরচ কমাবে। দ্বিতীয়ত, স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ফলে দুর্নীতি ও অননুমোদিত লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস পাবে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। তৃতীয়ত, ডিজিটাল রেকর্ডের সহজে অনুসন্ধানযোগ্যতা আর্থিক বিশ্লেষণ ও নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে, ফলে রাজস্ব সংগ্রহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রযুক্তি‑নির্ভর বন্ড ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে। বিশেষত, এশিয়া‑প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ডিজিটাল কাস্টমস সিস্টেমের গ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এনবিআরের এই পদক্ষেপকে একটি মডেল হিসেবে দেখা যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, এনবিআর ই‑ইউডি সংযোগকে ভিত্তি করে অন্যান্য সরকারি সেবা ও ডেটা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কর সংগ্রহ, রপ্তানি লাইসেন্স এবং পণ্য ট্র্যাকিং সিস্টেমের সঙ্গে একীভূতকরণ সম্ভাব্য। তবে, ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা গোপনীয়তা ও সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের চ্যালেঞ্জও থাকবে। তাই, যথাযথ নিরাপত্তা প্রোটোকল ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা অপরিহার্য।
সংক্ষেপে, এনবিআর, সাইকুডা ওয়ার্ল্ড এবং বিজিএমইএর যৌথ উদ্যোগ বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, দ্রুত ও স্বচ্ছ করে তুলবে। এই পরিবর্তন কেবল শুল্ক প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াবে না, বরং দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ডিজিটাল সংযোগের সম্ভাবনা থাকলেও, নিরাপত্তা ও দক্ষতা বজায় রাখতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও আপডেটের প্রয়োজন থাকবে।



