28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকক্সবাজার চকরিয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় এককে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড

কক্সবাজার চকরিয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় এককে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ী দুই ব্যক্তির মধ্যে এককে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল‑০১-এ বিচারিক হাকিম মো. আবু হানিফ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার মুহূর্তে অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সাজাপ্রাপ্ত অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন, ৪০ বছর বয়সী, চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের শাহরিয়ার পাড়ার বাসিন্দা, মৃত আবু তালেবের পুত্র। ভুক্তভোগী নারী একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মগনামা পাড়ার বাসিন্দা এবং গৃহবধূ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তওহীদুল আনোয়ারের মতে, ২০১৭ সালের ১৬ জুন সন্ধ্যায় রমজান মাসে তারাবি নামাজের জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা স্থানীয় মসজিদে গিয়েছিলেন। এ সময় ভুক্তভোগী একা তার বাসায় ছিলেন এবং জয়নাল আবেদীন ও তার এক সহযোগী এই সুযোগে তাকে ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগী নারী চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ তা নথিভুক্ত না করে। পরবর্তীতে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এজাহার দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে এবং ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।

বহু বছরব্যাপী বিচারিক প্রক্রিয়ার পর রবিবার আদালত রায় দেয়। অভিযোগের প্রমাণ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জয়নাল আবেদীনকে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত পাঁচ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্য অভিযুক্ত ছমি উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।

এই রায়ের পর আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানায় যে, যদি জরিমানা পরিশোধে কোনো আপত্তি থাকে বা অতিরিক্ত শাস্তি সংক্রান্ত কোনো আপিল করা হয়, তবে তা পরবর্তী শুনানিতে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট সামাজিক সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিবেদন অনুসারে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০১ এই ধরনের অপরাধের শাস্তি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে চলেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রক্রিয়াগত উন্নয়ন পরিকল্পনা করছে।

এই রায়ের মাধ্যমে চকরিয়া অঞ্চলে নারীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার দ্রুত নথিভুক্তি ও তদন্তে আরও সক্রিয় হতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের মতে, এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজে নারীর অধিকার রক্ষার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা হবে এবং গৃহবধূদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments