রবিবার দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা অফিসের দল কবরী রোডে অবস্থিত একটি ফুচকা দোকানে অভিযান চালায়। তদন্তের ফলস্বরূপ দোকান মালিককে ৬০,০০০ টাকার জরিমানা আর তিন দিনের মধ্যে স্বাস্থ্যের মানদণ্ড মেনে লাইসেন্স প্রাপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মেসার্স ভাই ভাই ফুচকা হাউস, যা স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এবং ব্যস্ত রাস্তার পাশে অবস্থিত, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল খাবারের গুণগত মান ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান এই অভিযানকে ভোক্তা সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পূর্বে একবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও দোকানটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করতে থাকে। সতর্কতা সত্ত্বেও, পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন লঙ্ঘন ধরা পড়ে, যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ধারা ৪৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।
পরিদর্শনের সময় ফুচকা তৈরিতে পচা আলু এবং মেয়াদোত্তীর্ণ দই ব্যবহার করা দেখা যায়। এছাড়া, অন্যান্য পচনশীল উপাদানও অনুপযুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা খাবারের স্বাদ ও নিরাপত্তা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অধিকন্তু, পূর্বের দিনের বাকি থাকা বাসি চিকেন ফ্রিজে সংরক্ষণ করে পুনরায় তেলে গরম করে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র খাবারের গুণমানই নয়, ব্যাকটেরিয়া ও রোগজীবাণুর বিস্তারেও সহায়তা করতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।
কর্মচারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মানা না হওয়াও একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়। কর্মস্থলে সঠিক হাত ধোয়া, পরিষ্কার পোশাক ও স্যানিটারি সুবিধার অভাব দেখা যায়, যা খাবারের সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ায়।
তদুপরি, দোকানটি প্রয়োজনীয় ফুড বিজনেস লাইসেন্সধারী নয়। লাইসেন্সের অনুপস্থিতি আইনগতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা নিষিদ্ধ করে এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষার জন্য জরুরি শর্ত।
উপরোক্ত লঙ্ঘনের ভিত্তিতে, অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান উল্লেখ করেন যে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ধারা ৪৩ অনুসারে মালিক ওহিদুল ইসলামকে ৬০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এই শাস্তি ভোক্তা সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার উদ্দেশ্য বহন করে।
অভিযানের সময় জব্দ করা পচা আলু ও বাসি চিকেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত পণ্যগুলোকে নিরাপদে নিষ্পত্তি করা হয় যাতে কোনোভাবে জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে না পারে।
দোকানকে তিন দিনের মধ্যে স্বাস্থ্যের মানদণ্ড মেনে খাবার প্রস্তুত করতে এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে অতিরিক্ত শাস্তি বা ব্যবসা বন্ধের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে। তাদের সমন্বিত কাজের ফলে লঙ্ঘনের সব দিক যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, জরিমানার পরিশোধ না হলে বা নির্দেশিত সময়সীমা মেনে না চললে আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে, যার মধ্যে ব্যবসা স্থগিত করা বা আরও কঠোর শাস্তি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কোনো আপিলের ক্ষেত্রে আইনানুগ সময়সীমা মেনে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হবে।
এই ঘটনা স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও কঠোরতা প্রদর্শন করে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে সতর্কতা জাগিয়ে তুলবে।



