22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমিয়ানমার রাখাইন সংঘাতে ৫৩ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য টেকনাফে আটক

মিয়ানমার রাখাইন সংঘাতে ৫৩ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য টেকনাফে আটক

মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষের ফলে ৫৩ জন সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যকে বাংলাদেশ সরকারের টেকনাফ সীমান্তে আটক করেছে। আটকগুলো রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ও দুপুরে হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী এলাকায় ধরা পড়ে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মিয়ানমারের নাগরিক এবং রাখাইন সীমান্তে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানা যায়।

সীমান্তে আটকদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া চলমান, এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানিয়েছেন, “অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে, তাদের পরিচয় যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটকদের সঙ্গে কোনো আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

এই ঘটনার পেছনে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও আরএসএ, আরএসও এবং নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলমান গুলিবর্ষণ রয়েছে। আরাকান আর্মি সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলা এবং ভারী অস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে তুলেছে, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে। সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনগণ উদ্বেগে ভুগছে।

আত্মরক্ষার জন্য অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তারা রাখাইন সীমান্তে গুলিবর্ষণের ফলে টিকে না পেরে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে পৌঁছেছে। এই ধরনের অযৌক্তিক পারাপার সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

হোয়াইক্যং এলাকায় গুলিবর্ষণের ফলে রোববার একটি বাংলাদেশি শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শিশুটি গুলির আঘাতে আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে এবং সীমান্তে স্বাভাবিক জীবনের ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করেছে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দৈনন্দিন কাজকর্মে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন দেখা যাচ্ছে। রোড, বাজার ও স্কুলের কার্যক্রম প্রায়ই গুলির শব্দে থেমে যায়, এবং বাসিন্দারা অস্থায়ী শেল্টারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে।

বাংলাদেশ সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে চলমান সশস্ত্র সংঘাত আমাদের সীমান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, তাই আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এই সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘ ও ASEAN-এর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা রাখাইন সংঘাতকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে দেখছেন। তারা বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের বিস্তার সীমান্ত পারাপারকে সহজ করে তুলছে, যা মানবিক সংকট ও অবৈধ অস্ত্র প্রবাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

ASEANের গৃহস্থালি নিরাপত্তা মেকানিজমের অধীনে মিয়ানমারকে শান্তি প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার জন্য চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক সহায়তা ও শরণার্থী সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত তহবিল প্রদান করার কথা প্রকাশ করেছে। এই বহুপাক্ষিক উদ্যোগগুলো রাখাইন সংঘাতের পরোক্ষ প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “মিয়ানমার রাখাইন অঞ্চলে অব্যাহত গুলিবর্ষণ এবং সীমান্ত পারাপার শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণ নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন এই সংকটের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” এই মন্তব্য বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা ও সমাধানের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে রাখাইন অঞ্চলে সংঘাতের তীব্রতা কমে না গেলে বাংলাদেশ সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এতে অতিরিক্ত সীমানা গার্ড, ড্রোন নজরদারি এবং শরণার্থী নিবন্ধন কেন্দ্রের স্থাপন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবৈধ প্রবেশ রোধের জন্য প্রোটোকল তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো রাখাইন সংঘাতের পরোক্ষ প্রভাব কমিয়ে, সীমান্তের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments