সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শহরের দু’টি আলাদা স্থানে শনি রাতের অল্প সময়ের মধ্যে দু’টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। প্রথমটি বেলকুচি থানার আওয়ামী লীগ দফা দফা দায়িত্বে থাকা মো. ইয়াহিয়ার দক্ষিণপাড়ার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, আর দ্বিতীয়টি সিরাজগঞ্জ শহরের দিয়ারধানগড়া মহল্লায় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম ইন্নার বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ। উভয় ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তদন্তের দিক নির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে।
শনি রাতের প্রায় দুইটায় বেলকুচি দফা দফা আওয়ামী লীগ দফার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াহিয়ার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। বাড়ির কাঠামো ও আসবাবপত্র জ্বলে পুড়েছে, তবে ইয়াহিয়া ও তার পরিবার দ্রুত বাড়ি ছেড়ে নিরাপদে বের হতে সক্ষম হয়। ইয়াহিয়া জানান, “গভীর রাতে বাড়িতে আগুন লাগার উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা। রাজনৈতিক মামলার কারণে আমি বাড়িতে ছিলাম না, তবে স্ত্রী ও সন্তান দ্রুত বেরিয়ে নিরাপদে রইল।” বাড়িতে থাকা অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনও দ্রুত পালিয়ে যায়।
বেলকুচি থানার ওয়ানিং অফিসার শেখ ফরিদ উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ现场ে উপস্থিত হয় এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ চালায়। ক্ষতিগ্রস্তরা রবিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে অভিযোগ দাখিলের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শনি রাতের নয়টায় সিরাজগঞ্জ শহরের দিয়ারধানগড়া মহল্লায় শরিফুল ইসলাম ইন্নার বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। ইন্না সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় এনটিভি ও “আমার দেশ” পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি। তিনি জানান, গত এক মাসে দিয়ারধানগড়া ও সয়াগোবিন্দ (ভাঙ্গাবাড়ি) মহল্লার মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষ চলেছে, যার ফলে তার বাড়িতে এই বোমা হামলা ঘটেছে।
ইন্না বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দুই মহল্লার মধ্যে মারামারির প্রবণতা বাড়ছে। শনিবার রাতে থানা অফিসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়, তবে কোনো সমাধান হয়নি। আমার বাড়ি দুই গ্রামের সীমানায় অবস্থিত, এবং হামলাকারীরা মূলত বাড়ি পুড়িয়ে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেছে।” তিনি আরও জানান, রাত্রিকালীন তিনটি মোটসাইকেলে ছয়জন ব্যক্তি তার বাড়ি লক্ষ্য করে দুটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। একই সময়ে দুইটি পার্শ্ববর্তী বাড়িতেও বোমা নিক্ষেপ করা হয়, তবে দ্রুত আগুন নেভানোর ফলে কোনো সম্পত্তি ক্ষতি হয়নি।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত চালায়। বোমা নিক্ষেপের সময় ও পদ্ধতি, পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গাড়ি ও পরিচয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। থানা কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, বোমা নিক্ষেপের পদ্ধতি ও ব্যবহার করা পেট্রোলের ধরন থেকে সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি সংযোগ পাওয়া যায়নি, তবে উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার নিশ্চিত করতে পুলিশ অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উভয় ঘটনার শিকার পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।
এই দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানানো হয়েছে।



