অস্ট্রেলিয়ায় শেষ হওয়া আশেস সিরিজের পরেও ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ায় জয় অর্জনের স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। পরের সিরিজটি গ্রীষ্ম ২০২৭-এ অনুষ্ঠিত হবে, আর তখনও ইংল্যান্ড শেষবার ২০১৫ সালে উর্ন জিতেছিল, অর্থাৎ ১২ বছর পরেই পুনরায় জয় অর্জনের সুযোগ আসবে।
সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে জ্যাকব বেটহেল তার প্রথম টেস্ট শতক, জোশ টংয়ের দৃঢ় পারফরম্যান্স এবং জো রুটের অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিনের পরের শতক কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত এনে দিয়েছে, তবে এসবই বিরল ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। ফলে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, বিশেষ করে নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে।
ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ইচ্ছা সীমিত বলে মনে হচ্ছে, ফলে খেলোয়াড়ের তালিকায় ব্যাপক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা কঠিন। তবে যদি নতুন রক্ত প্রবাহের প্রয়োজন হয়, তবে কোন তরুণরা ২০২৭ পর্যন্ত দলের মূল অংশ হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সোমারসেটের রেভ ভাইবোন, থমাস এবং জেমস রেভ, এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। থমাস রেভ গত গ্রীষ্মে ১৭ বছর বয়সে সাদা বলের ক্রিকেটে সোমারসেটের ডেবু করেন, আর তার বড় ভাই জেমস রেভ বিভিন্ন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলেন।
জেমস রেভ, যিনি ২১ বছর ও ১১৪ দিন বয়সে, গত বছর ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে দশটি প্রথম শ্রেণীর শতক রেকর্ড করেন। এই সাফল্যের পর তাকে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ইংল্যান্ড কল করা হয়, যদিও তিনি ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি।
থমাস রেভেরও নজর কাড়ছে বিশাল সম্ভাবনা। তিনি গত জুনে ইংল্যান্ডের আন্ডার-১৯ দলের সর্ব দ্রুত ৫০ ওভারের শতক করেন, যা তাকে তরুণদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছে। উভয় ভাইই শীতকালে ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফরে অংশ নেন।
লায়ন্সের ক্যাম্বেরা-তে অনুষ্ঠিত ডে-নাইট ম্যাচে জেমস রেভ প্রাইম মিনিস্টারস’ এক্সআই দলের বিরুদ্ধে ৯২ না-আউট স্কোর করেন, যা তার ব্যাটিং ক্ষমতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে থমাস রেভ লিলাক হিলের ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫৫ রান করেন এবং ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়া এ দলের বিরুদ্ধে ৪৭ রান করে দলের আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়িয়ে দেন।
এই পারফরম্যান্সগুলোকে ভিত্তি করে উভয় রেভকে শীর্ষ ছয় ব্যাটসম্যানের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি বর্তমান উইকেটকিপার জেমি স্মিথের ফর্মে অবনতি অব্যাহত থাকে, তবে রেভ ভাইবোনের উপস্থিতি তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
থমাস রেভের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে; তিনি এই মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত আন্ডার-১৯ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড দলে ক্যাপ্টেন হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। তবে এখনো পর্যন্ত তিনি সোমারসেটের প্রথম শ্রেণীর কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি, তাই তার প্রথম শ্রেণীর অভিজ্ঞতা সীমিত।
এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, রেভ ভাইবোনের উত্থান ধীরে ধীরে ঘটবে এবং তাড়াতাড়ি বড় প্রত্যাশা করা যুক্তিযুক্ত নয়। তবুও তাদের সম্ভাবনা ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ব্যাটিং লাইনে নতুন দিক যোগ করতে পারে।
অন্যদিকে, জার্সি দলের দীর্ঘমেয়াদী খেলোয়াড় আসা ট্রাইব, ৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, এবং তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে ইচ্ছুক। যদিও এখনো তার ইংল্যান্ডে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়নি, তবে তার উপস্থিতি দলের গভীরতা বাড়াতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইংল্যান্ডের ২০২৭ আশেস সিরিজের প্রস্তুতি এখনো চলমান, এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন সীমিত হলেও তরুণ খেলোয়াড়দের সম্ভাবনা উন্মোচিত হচ্ছে। রেভ ভাইবোনের পারফরম্যান্স, জেমি স্মিথের বর্তমান ফর্ম এবং আসা ট্রাইবের অভিজ্ঞতা সবই দলের গঠনকে প্রভাবিত করবে। ভবিষ্যতে কোন খেলোয়াড়রা মূল দলে স্থান পাবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে, তবে বর্তমানে এই নামগুলোই ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।



