সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত বিডিপিএল ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১৯৯ রানে রাংপুর রাইডারসকে পরাজিত করে টেবিলে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে। উএই দলের উম্মত ওয়াসিম ৫৯ বলে ৮৭ রান অচল রেখে, শান্তো ৪২ বলে ৭৬ রান করে দলকে শক্তিশালী শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে নিয়ে যায়।
ওয়াসিমের অচল ৮৭ রান এবং শান্তোর দ্রুত ৭৬ রান একসাথে ১৪২ রানের দ্বিতীয় উইকেট পার্টনার গঠন করে, যা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় উইকেট পার্টনার হিসাবেও রেকর্ড হয়। এই অংশীদারিত্বের ফলে রাজশাহী ১৯.১ ওভারে ১৭৯ রানে তিন উইকেটের সঙ্গে লক্ষ্য পূরণ করে, ফলে তারা সাত উইকেটের ব্যবধানে জয়লাভ করে।
রাংপুর রাইডারসের প্রথম ব্যাটিং ইনিংসে তাওহিদ হ্রিদয় ৫৬ বলে ৯৭ রান অচল রেখে দলকে ১৭৮ রানে চার উইকেটের সঙ্গে স্থাপন করে। হ্রিদয় আটটি চতুর্থি এবং ছয়টি ছয়ের মাধ্যমে দ্রুত স্কোর বাড়ায়, যদিও তার আগে দলটি ১২তম ওভারে ৭২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপন্ন অবস্থায় ছিল।
হ্রিদয় এবং পাকিস্তানের খুশদিল শাহের ৫০ বলে ১০৫ রানের চতুর্থ উইকেট পার্টনার রাইডারসকে পুনরুজ্জীবিত করে, ফলে স্কোর দ্রুত ১৭৮ রানে পৌঁছায়। খুশদিল ২৯ বলে ৪৪ রান করে শেষ ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে আউট হয়, ফলে হ্রিদয় শেষ বলে তিন রান চাওয়া সত্ত্বেও নিউ জিল্যান্ডের জেমস নীশামের ইয়র্কার ডেলিভারিতে থেমে যায়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম তৃতীয় ওভারে মাত্র তিন রান করে আউট হয়, তবে ওয়াসিম-শান্তোর স্থিতিশীল পার্টনারের কারণে অতিরিক্ত কোনো ঝুঁকি না থেকে লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। উভয় ব্যাটসম্যানের দ্রুত স্কোরিং এবং রক্ষণশীল শট নির্বাচন দলকে সহজে টার্গেটের ওপর পৌঁছাতে সাহায্য করে।
ম্যাচের শেষে টেবিলে রাজশাহী দ্বিতীয় স্থানে উঠে, রাংপুর তৃতীয় স্থানে নেমে আসে। উভয় দলের পারফরম্যান্সে দেখা যায় যে শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস দলকে জয়ী করতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিডিপিএল সিজনের পরবর্তী ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের পরবর্তী প্রতিপক্ষ এবং রাংপুর রাইডারসের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে টুর্নামেন্টের শিডিউল অনুযায়ী শীঘ্রই নতুন ম্যাচের ঘোষণা দেওয়া হবে।
এই জয় রাজশাহীর পয়েন্ট টেবিলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনে দেয়, যেখানে তারা এখন শীর্ষ দুই দলের মধ্যে অবস্থান করে। রাংপুরের হ্রিদয়ের চমৎকার ইনিংস সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে হারের মুখে পড়ে, যা টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক স্বভাবকে তুলে ধরে।
দলীয় কৌশল এবং ব্যাটিং পার্টনারশিপের গুরুত্ব এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ওয়াসিম ও শান্তোর পার্টনারশিপ যা টার্গেটকে সহজে অর্জন করতে সহায়তা করে। রাইডারসের হ্রিদয় এবং খুশদিলের পুনরুদ্ধারও উল্লেখযোগ্য, তবে শেষের গেম প্ল্যানের ঘাটতি তাদের জয় থেকে বঞ্চিত করে।
সিলেটের এই ম্যাচটি বিডিপিএল সিজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে প্রতিটি পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানকে প্রভাবিত করে। উভয় দলের পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে।



