নাগরিক ঐক্য গোষ্ঠীর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আজ বিকেলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পেয়ে বগুড়া-২ আসনের প্রার্থীরূপে পুনরায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন। কমিশন তার আবেদন গ্রহণ করে নথিপত্রের বৈধতা নিশ্চিত করেছে, যা তার পূর্ববর্তী প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্তকে উল্টে দিয়েছে।
ইলেকশন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর, মান্নার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, আজ বিকালের শুনানির মাধ্যমে আবেদনটি গৃহীত হয়েছে এবং নথিপত্রের বৈধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, পূর্বে বগুড়া-২ আসনের রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীর নথি পর্যালোচনার সময় তা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বাতিলের কারণ হিসেবে রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীর নথিপত্রে কিছু ত্রুটি উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে মান্না দ্রুতই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন দায়ের করেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করেন। আপিল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, তিনি তার পূর্বের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও বগুড়া জেলায় তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।
শুনানির সময় মান্না উল্লেখ করেন যে, তিনি পূর্বে বগুড়া জেলায় বহুবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন যে, তার প্রার্থিতা বাতিলের পেছনে কোনো বৈধ কারণ নেই।
মান্না আরও বলেন, তার প্রার্থিতা বাতিলের পেছনে ‘মোবোক্রেসি’র প্রভাব রয়েছে, যা তাকে বিরোধী গোষ্ঠীর দ্বারা গঠন করা একটি অবৈধ চাপের ইঙ্গিত দেয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, জেলা উপকমিশনারও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
উপকমিশনারের মন্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থিতা বাতিলের কোনো প্রয়োজনীয়তা না থাকলে বিষয়টি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল।
মান্না শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাজের প্রশংসা করে বলেন যে, তারা দ্রুত এবং সঠিকভাবে বিষয়টি সমাধান করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এবং ভবিষ্যতে বগুড়া-২ আসনে তার প্রচারাভিযানকে নতুন উদ্যম দেবে।
অন্যদিকে, রিটার্নিং অফিসার এবং তার সহকর্মীরা প্রার্থিতা বাতিলের পেছনে নথিপত্রের নির্দিষ্ট ত্রুটি উল্লেখ করে থাকেন, যদিও সেসব ত্রুটি শেষ পর্যন্ত কমিশনের রায়ে অপ্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়েছে। তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে প্রার্থীর নথিপত্রে কিছু ফরমাল ত্রুটি ছিল, যা সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নাগরিক ঐক্য গোষ্ঠীর জন্য বগুড়া-২ আসনে মান্নার পুনরায় প্রার্থীতা একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়, যা তাদের নির্বাচনী কৌশলকে শক্তিশালী করবে। অন্য দলগুলোর জন্যও এই রায় একটি সতর্কবার্তা, যে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, মান্নার পুনরায় প্রার্থীতা বগুড়া জেলায় তার সমর্থনভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করবে এবং আসন্ন নির্বাচনে তার পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করবে। তবে তারা জোর দিয়ে বলছেন, ভোটারদের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নীতি ও কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করবে, ব্যক্তিগত বিরোধের ওপর নয়।
আসন্ন নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরই প্রচারাভিযান শুরু হবে। মান্না এবং তার দল এখনো ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য বিভিন্ন সভা ও আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে, রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মীরা ভবিষ্যতে নথিপত্রের যথাযথতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা প্রকাশ করেছেন।
সংক্ষেপে, আজকের রায় মান্নার রাজনৈতিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় চিহ্নিত করেছে এবং বগুড়া-২ আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই পরিবর্তন ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



