সিরাজগঞ্জের SB ফজলুল হক রোডে রাত দশটার দিকে সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি শারিফুল ইসলাম ইননা’র বাড়িতে অজানা ব্যক্তিরা পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে। বোমা ফাটার ফলে ঘরে অল্প সময়ের জন্য অগ্নিকাণ্ড দেখা দেয়। দ্রুতই আশেপাশের বাসিন্দারা আগুন নেভিয়ে দেয় এবং কোনো আহত হয়নি।
ঘটনা ঘটার পরই সিরাজগঞ্জ সদর থানা অফিসার-ইন-চার্জ মো. শাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, আক্রমণটি রাত দশটায় ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নি সৃষ্টির কারণ হয়। স্থানীয় মানুষদের ত্বরিত হস্তক্ষেপে শিখা নিভে যায়।
শারিফুল ইসলাম ইননা, যিনি সিরাজগঞ্জের প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি এবং স্থানীয় মিডিয়ার correspondent, জানান, আক্রমণকারী দুজন মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, হঠাৎ ঘটনার ফলে তার পরিবার ভয় পেয়েছে এবং দুজনকে পালিয়ে যাওয়া দেখেছেন।
ইননা আরও বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন না কেন তার বাড়িতে এ ধরনের আক্রমণ করা হয়েছে। বাড়ির জানালার পাশে গলায় কিছু গন্ধ এবং ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল, যা তৎক্ষণাৎ দমিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তৎক্ষণাৎ স্থানীয় নিরাপত্তা দল এবং ডিটেকটিভ শাখা কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেন। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ক্যামেরা রেকর্ডিং সংগ্রহের জন্য স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহের নির্দেশ দেন।
অফিসার-ইন-চার্জ জানান, এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি। তবে সিসিটিভি রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে আক্রমণকারীদের সনাক্ত করার কাজ চলছে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এই ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শিকারের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আক্রমণের ফলে বাড়িতে কোনো সম্পত্তিগত ক্ষতি হয়নি, তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সাময়িকভাবে কিছু জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসিন্দারা জানান, তারা দ্রুতই আগুন নেভিয়ে দেয়ার জন্য পানি ও বালতি ব্যবহার করে।
পুলিশের মতে, পেট্রল বোমা ব্যবহার করে আক্রমণ করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।
এই ঘটনার পর সিরাজগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে।
শহরের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণ এই ধরনের হিংসা থেকে নিরাপদ থাকতে চায়।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। বর্তমানে, ঘটনাস্থলে কোনো আঘাতজনিত ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি এবং বাড়ির মালিক ও তার পরিবার নিরাপদে আছেন।
এই আক্রমণকে নিয়ে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রেস ক্লাবের সদস্যরা একত্রে কাজ করে অপরাধীদের দ্রুত ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।



