কক্সবাজারের লকলাতলী সমুদ্র এলাকায় রবিবার (১১ জানুয়ারি) কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ অভিযানে ১৯ জন ডাকাতি গোষ্ঠীর সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সদস্যের মৃত্যু ঘটে।
গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই এলাকায় একটি সংগঠিত ডাকাত দল মাছ ধরার নৌকায় বসে সমুদ্রের পথে ডাকাতি করার পরিকল্পনা করছিল। সূত্রের তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোস্ট গার্ড শুক্রবার রাতেই সমুদ্রের ওপর টহল চালাতে একটি জাহাজ ‘সবুজ বাংলা’ পাঠায়।
‘সবুজ বাংলা’ জাহাজটি সন্দেহজনক দুইটি মাছ ধরার নৌকাকে থামার সংকেত পাঠায়, তবে নৌকাগুলো সংকেত উপেক্ষা করে আলো নিভিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নৌকাগুলোকে অনুসরণ করার পর এক নৌকা থেকে গুলি ছোড়া হয়।
গণ্যমান গুলির প্রতিক্রিয়ায় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। এই গুলিবিদ্ধে ৪০ বছর বয়সী মোঃ আনিস গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যু ঘটার পরই নৌকাটিকে তাড়া চালানো হয়।
ধারাবাহিক কয়েক ঘণ্টার তাড়া শেষে আরেকটি সন্দেহজনক নৌকা ধরা পড়ে। নৌকাটির তল্লাশিতে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, দুইটি তাজা কার্তুজ এবং মোট এগারোটি দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়।
মোট ১৯ জন সন্দেহভাজনকে গুলি, অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রীসহ আটক করা হয়। আটক করা ব্যক্তিরা সবই ডাকাতি পরিকল্পনা করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অটকরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই নিকটস্থ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা সেবা সত্ত্বেও, রোগীটি শনিবার রাত ২:০৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করে।
অধিকাংশ আটককে তৎক্ষণাৎ কক্সবাজার মডেল থানা-তে হস্তান্তর করা হয়। থানা কর্তৃপক্ষ জব্দ করা সামগ্রী এবং আটকদের তালিকা সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ তদন্তে ব্যবহার করবে।
অধিক তদন্তের জন্য কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় পুলিশ সংস্থা একত্রে কাজ চালিয়ে যাবে। আটকদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
অভিযানের সময় পাওয়া অস্ত্র ও গুলি দেশের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত টহল এবং নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।



