রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী দলের প্রার্থীদের আপিল শুনানির সময় মিডিয়াকে জানালেন, যদি ভোটের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে হয়, তবে দলটি ৪০ থেকে ৭০টি আসন জিততে পারে।
পাটোয়ারী উল্লেখ করেন, বর্তমান ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত অনিশ্চিত, তাই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের মাঠে সমতা না থাকলে ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে।
দলীয় নেতৃত্বের মতে, স্বচ্ছ ভোটের শর্ত পূরণ হলে জাতীয় পার্টি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন অর্জন করতে পারবে। তিনি বলেন, “যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে, আমি বিশ্বাস করি আমাদের পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসন পেতে পারে।” এই প্রত্যাশা দলের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও জানান, প্রার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার মূল চাবিকাঠি। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু প্রার্থীর নামকরণ তুচ্ছ ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দুর্বলতা প্রকাশ করে।
অপিল ট্রাইব্যুনালকে তিনি প্রশংসা করে বলেন, সম্প্রতি টেকনিক্যাল ভিত্তিতে বাতিল হওয়া বহু নামকরণ পুনর্বিবেচনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধাপকে তিনি “একটি ইতিবাচক দিক” হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যতে আরও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের আশ্বাস দেয়।
তবে পাটোয়ারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসাররা মবের (শাসনকারী দল) ভয়ে তাদের স্বায়ত্তশাসন ব্যবহার করতে পারেননি, ফলে কিছু সংশোধন করা সম্ভব হয়নি। এই ভয়কে তিনি “ট্যাগিং” ও “দোসর” বলা হয় এমন সামাজিক চাপের সঙ্গে যুক্ত করেন।
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাটোয়ারী সতর্ক করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে ফলহীন ও মানহীন নির্বাচন হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করবে।
ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য তিনি একটি সতর্কবার্তা দেন: যদি ফলহীন নির্বাচন থেকে গঠিত সরকার গৃহীত ম্যান্ডেটের ঘাটতি নিয়ে কাজ করে, তবে তা দেশকে হোঁচট খাওয়াতে পারে। তাই স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত বৈধ ম্যান্ডেটই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি।
পাটোয়ারী সব রাজনৈতিক দলের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ সমঝোতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সকল দলই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটের প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, একে অপরকে যথাযথ স্থান দেবে।” তিনি অতীতের নির্বাচনের আগে গৃহীত সমঝোতাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একই রকম সমঝোতা প্রয়োজনীয় বলে জোর দেন।
জাতীয় পার্টির বর্তমান বিভাজন ও পার্টি চিহ্নের সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিতে পাটোয়ারী ব্যাখ্যা করেন, দলের মূল অংশটি জিএম কাদেরের অধীনে রয়েছে, আর লাঙ্গল শাখা একই জিএম কাদেরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এভাবে পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের কাঠামো স্পষ্ট করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, শামীম হায়দার পাটোয়ারী স্বচ্ছ ভোট, নিরাপদ নির্বাচন পরিবেশ এবং রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, জাতীয় পার্টির আসন প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ সরকারের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন।



