গুজরাটের বড়োদরায় অনুষ্ঠিত ভারত‑নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ওডি ম্যাচে টস জিতে ভারত ফিল্ডিং বেছে নেয়। টসের সময় নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েল একাদশে আদিত্য অশোককে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এভাবেই ভারতীয় জন্মের এই তরুণ লেগ‑স্পিনার তার তৃতীয় ওডি ম্যাচে নিজের জন্মদেশের বিপক্ষে খেলতে বেরিয়ে পড়েন।
আদিত্য অশোকের শিকড় তামিলনাড়ুর ভেলোরে, যেখানে ২০০২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবের প্রথম কয়েক বছর তিনি সিঙ্গাপুরে কাটিয়ে, এরপর পরিবার নিউজিল্যান্ডে স্থানান্তরিত হয়। চার বছর বয়স থেকে তিনি অকল্যান্ডে বসবাস করছেন এবং তার বাবা-মা বর্তমানে অকল্যান্ডের একটি হাসপাতালে কর্মরত।
নিউজিল্যান্ডে বসবাসের সঙ্গে সঙ্গে আদিত্য ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত হন, প্রথম ধাপ ছিল অকল্যান্ডের ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ। এখানে তিনি ল্যাথি ও শটের মৌলিক নীতি শিখে, দ্রুত লিগে নিজের নাম তুলে ধরেন। ২০২০ সালে অন্ডার‑১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের হয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক দিগন্তে প্রথম নজরে আসেন।
২০২১‑২২ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি‑টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘সুপার স্ম্যাশ’‑এ অকল্যান্ড এসেসের হয়ে আদিত্য প্রথমবারের মতো শীর্ষ স্তরে খেলেন। এই পারফরম্যান্সের পরই তাকে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সুযোগ দেয়া হয়, যেখানে তিনি দ্রুতই নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন।
ডোমেস্টিক ক্রিকেটে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ২০২২‑২৩ প্লাঙ্কেট শিল্ডে, যখন তিনি সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ১০৬ রান এবং ৫ উইকেটের শানদার পারফরম্যান্স দেখান। এই দ্বৈত অবদান তাকে দেশের স্পিনার হিসেবে আলাদা করে তুলতে সহায়তা করে। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে জাতীয় দলের দরজা খুলে দেন।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে আদিত্য চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) একাডেমিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। ভারতীয় পিচে স্পিনারদের জন্য কাজ করা কঠিন, তাই তিনি এই সফরে নিজের কৌশলকে আরও পরিমার্জন করার সুযোগ পান। ভবিষ্যতে আইপিএল‑এ সিএসকের জার্সি পরিধান করার স্বপ্ন তার মধ্যে গড়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক স্তরে আদিত্য অশোকের প্রথম ওডি ডেবিউ হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নেলসনে, যেখানে তিনি বাংলাদেশকে বিপক্ষে খেলেন। একই বছর আগস্টে দুবাইতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে তার টি‑টোয়েন্টি ডেবিউ হয়। এরপর ২০২৩ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার নিউজিল্যান্ডের ‘এ’ দলে ডাক পান।
আজকের ওডিতে আদিত্য তৃতীয়বার ওডি মাঠে পা রাখছেন, তবে এখনো বড় কোনো পারফরম্যান্সের সুযোগ পাননি। ওডিতে তার বর্তমান রেকর্ডে একটি উইকেট রয়েছে, আর টি‑টোয়েন্টিতে একই সংখ্যক উইকেটের রেকর্ড রয়েছে। যদিও তিনি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঝলক দেখানোর পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে তার সম্ভাবনা কোচিং স্টাফের দৃষ্টিতে স্পষ্ট।
মাইকেল ব্রেসওয়েল টসের সময় আদিত্যকে একাদশে রাখার পেছনে তার লেগ‑স্পিনের নিয়ন্ত্রণ এবং ভিন্ন ভিন্ন শর্তে গতি পরিবর্তনের ক্ষমতা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আদিত্যয়ের তরুণ বয়স সত্ত্বেও ম্যাচের চাপ সামলাতে সক্ষমতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী ওডি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি আগামী কয়েক দিন পরই অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আদিত্য আবারও একাদশে থাকতে পারেন। এছাড়া টি‑টোয়েন্টি সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকবে। তার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দলের কৌশলে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন।
আদিত্য অশোকের গল্পটি দেখায় কীভাবে একটি শিশুরা বিভিন্ন দেশে বেড়ে উঠে, দুই দেশের সংযোগে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলে। জন্মভূমি ভারতের সঙ্গে তার প্রথম ওডি মুখোমুখি হওয়া তার ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ মুহূর্ত, যা ভবিষ্যতে আরও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



