28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিলর্ড ম্যান্ডেলসন জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের ব্যাখ্যা ও ক্ষমা না করার কারণ

লর্ড ম্যান্ডেলসন জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের ব্যাখ্যা ও ক্ষমা না করার কারণ

লর্ড ম্যান্ডেলসন, যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন যুক্তরাষ্ট্র দূত, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জেফ্রি এপস্টেইনের সম্পত্তিতে কোনো তরুণী নারী দেখেননি বলে দাবি করেন। তিনি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কাজ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন এবং তাই তার শিকারদের কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

ম্যান্ডেলসনকে এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে দূত হিসেবে পদত্যাগ করতে হয়েছিল, যখন প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায় তিনি এপস্টেইনের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও তাকে সমর্থনমূলক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে আত্মহত্যা করে মারা যায়, যদিও তার বিরুদ্ধে যৌন পাচার ও নাবালিকাদের শোষণের অভিযোগ ছিল।

সাক্ষাৎকারে ম্যান্ডেলসন জানান, তিনি যদি কোনোভাবে অপরাধে জড়িত থাকতেন বা দায়ী হতেন, তবে অবশ্যই শিকারদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি এপস্টেইনের কাজ সম্পর্কে জানতেন না এবং তাই কোনো দায়িত্ব স্বীকার করতে পারছেন না। তিনি যুক্তি দেন, তার গে পরিচয় তাকে এপস্টেইনের যৌন কর্মকাণ্ড থেকে আলাদা রাখে।

ম্যান্ডেলসন শিকার নারীদের জন্য একটি দুর্বল সিস্টেমের সমালোচনা করেন, যা তাদের কণ্ঠ শোনার সুযোগ দেয়নি এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদান করেনি। তিনি বলেন, এই সিস্টেমই এপস্টেইনকে রক্ষা করেছে, শিকারদের নয়। তিনি শিকার নারীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই অবিচারকে অনুতাপ করবেন।

ম্যান্ডেলসনের দূত পদে কাজের মেয়াদ মাত্র কয়েক মাসই ছিল। তার পদত্যাগের পর, যুক্তরাজ্যের সরকার তাকে দায়িত্বহীন অবস্থায় রেখে দেয়। এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সাক্ষাৎকারে ম্যান্ডেলসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের ওপর মন্তব্যের প্রশ্নেও উত্তর দেন। তিনি ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।

ম্যান্ডেলসনের এই বিবৃতি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক তার অজ্ঞতার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যরা তার স্বীকারোক্তিকে স্বীকারযোগ্য বলে দেখেছেন। তবে সকলেই একমত যে এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের ফলে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এপস্টেইনের অপরাধের ইতিহাস ২০০৮ সালে নাবালিকাকে যৌন সেবা প্রদান করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই সময়ে তাকে যৌন অপরাধীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার মৃত্যুর পরেও তার অপরাধের ব্যাপক তদন্ত চলেছে, এবং শিকার নারীদের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

ম্যান্ডেলসন উল্লেখ করেন, যদি তিনি এপস্টেইনের কাজ সম্পর্কে জানতেন, তবে তিনি শিকারদের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কারণে শিকারদের প্রতি কোনো ক্ষতি না করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, শিকার নারীরা সিস্টেমের অবহেলার শিকার হয়েছে এবং তাদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই সাক্ষাৎকারে ম্যান্ডেলসনের বক্তব্যের ফলে যুক্তরাজ্যের সরকারকে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো সরকারি কর্মকর্তার নৈতিকতা ও নীতি-নির্ধারণের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। শিকারের অধিকার রক্ষার জন্য আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করার আহ্বানও বাড়ছে।

ম্যান্ডেলসনের মন্তব্যের পর, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। কিছু পার্লামেন্টার দাবি করেন, দূত পদে থাকা অবস্থায় এধরনের অপরাধী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা অনুপযুক্ত। অন্যরা ম্যান্ডেলসনের অজ্ঞতার দিকটি তুলে ধরে, তার দায়িত্বের পরিধি স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, ম্যান্ডেলসনের স্বীকারোক্তি এবং তার বন্ধুত্বের পরিণতি যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক নীতি ও নৈতিক মানদণ্ডের পুনর্মূল্যায়নের দরজা খুলে দিয়েছে। শিকার নারীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments