বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (BTCL) আজ প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, তার বিদ্যমান ইন্টারনেট প্যাকেজগুলোতে গতি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে, আর মাসিক মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ব্যবহারকারীদের দ্রুততর সংযোগ প্রদান করে দেশের ডিজিটাল সেবা উন্নত করা। সরকারী টেলিকম অপারেটরটি উল্লেখ করেছে যে, নতুন গতি ব্যবহার করে অনলাইন শিক্ষা, দূরবর্তী কাজ, উচ্চ রেজোলিউশনের ভিডিও স্ট্রিমিং এবং গেমিং ইত্যাদি কার্যক্রমে সুবিধা বাড়বে।
BTCL নতুন প্যাকেজগুলোকে “সুলভ” সিরিজ থেকে “সাশ্রয়ী” সিরিজে পুনঃব্র্যান্ডিং করেছে, যাতে গ্রাহকদের জন্য উন্নত মানের প্যাকেজের প্রতিফলন স্পষ্ট হয়। পুনঃনামকরণে মূলত প্যাকেজের গতি ও মূল্য সমন্বয়কে জোর দেওয়া হয়েছে, ফলে ব্যবহারকারীরা সহজে পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
বর্ধিত ব্যান্ডউইডথের ফলে শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং গেমার সহ বিভিন্ন ব্যবহারকারী গোষ্ঠী দ্রুততর ডেটা ট্রান্সফার উপভোগ করতে পারবে। বিশেষ করে দূরশিক্ষা এবং হোম অফিসের সময়ে স্থিতিশীল ও উচ্চ গতি সংযোগের চাহিদা বাড়ছে, যা এই আপডেটের সময়োপযোগী প্রাসঙ্গিকতা বাড়িয়ে দেয়।
নির্দিষ্ট প্যাকেজের পরিবর্তনগুলো নিম্নরূপ: টাকার ৩৯৯ টাকার “সুলভ-৫” প্যাকেজের গতি ৫ Mbps থেকে বাড়িয়ে ২০ Mbps করা হয়েছে এবং নতুন নাম “সাশ্রয়ী-২০” দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, টাকার ৫০০ টাকার “সুলভ-১২” প্যাকেজের গতি ২৫ Mbps করা হয়েছে, আর টাকার ৫০০ টাকার “ক্যাম্পাস-১৫” প্যাকেজের গতি ৫০ Mbps করে “ক্যাম্পাস-৫০” নামে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে।
মধ্যম স্তরের প্যাকেজগুলোতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। টাকার ৮০০ টাকার “সুলভ-১৫” এখন ৫০ Mbps গতি প্রদান করে, টাকার ১,০৫০ টাকার “সুলভ-২০” প্যাকেজের গতি পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ১০০ Mbps করা হয়েছে, এবং টাকার ১,১৫০ প্যাকেজের গতি ১২০ Mbps করা হয়েছে।
উচ্চতর স্তরের গ্রাহকদের জন্যও সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। টাকার ১,৩০০ প্যাকেজের গতি এখন ১৩০ Mbps, টাকার ১,৫০০ প্যাকেজের গতি ১৫০ Mbps, এবং টাকার ১,৭০০ টাকার “সুলভ-৫০” প্যাকেজের গতি ১৭০ Mbps করে “সাশ্রয়ী-১৭০” নামে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে। এই আপডেটের মাধ্যমে সব মূল্যসীমার ব্যবহারকারীই দ্রুততর ইন্টারনেট উপভোগ করতে পারবেন।
BTCL উল্লেখ করেছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও উচ্চ মানের ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে, যা দেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গতি বাড়িয়ে একই দামে সেবা প্রদান করা গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়াবে এবং দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
কোম্পানি আরও জানিয়েছে যে, গ্রাহক সেবা ও গুণগত মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ধরে ভবিষ্যতে আরও গ্রাহক-বান্ধব পরিকল্পনা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধরনের ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



