ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস রবিবার ঢাকার একটি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ পার্লামেন্টারি নির্বাচনের পূর্বে অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মূল ধারণা ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটদান প্রক্রিয়ায় দেশের সকল সামাজিক গোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচনকে সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
ইইয়াবসের মতে, অন্তর্ভুক্তি বলতে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পাশাপাশি আঞ্চলিক ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর ভোটারদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা বোঝায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গোষ্ঠীগুলোর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং ভোটের সুযোগের সমতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পর্কে ইইয়াবসের দৃষ্টিভঙ্গি হল, ভোটার উপস্থিতি কেবল সংখ্যাত্মক নয়, তার গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ভোটারদের প্রকৃত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, মিশন ভোটার উপস্থিতির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পর্যবেক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের কাজ হল নির্বাচনের পূর্ব, চলমান ও পরবর্তী পর্যায়ে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ করা, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা। মিশন দেশের নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ প্রদান করবে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ পার্লামেন্টারি নির্বাচন ২০২৬ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই নির্বাচনে সরকারী দল ও বিরোধী দল উভয়ই অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণের মানদণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছে, যাতে ভোটারদের বিশ্বাস অর্জন করা যায়।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বৈধতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পূর্ববর্তী নির্বাচনে কিছু গোষ্ঠীর ভোটার তালিকায় বাদ পড়ার অভিযোগ উঠে আসার পর, কমিশন এখন ভোটার নিবন্ধন ও তালিকা আপডেটের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করছে।
বিরোধী দলগুলোও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ইইউ মিশনের পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ফলাফলকে সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য করা যায়।
ইইউ মিশনের এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে যদি নির্বাচনের প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয়, তবে ফলাফলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে মিশনের দল দেশের বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করবে, ভোটার তালিকা, ভোটদান কেন্দ্রের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করবে। তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্বাচনের পর প্রকাশিত হবে, যা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে, যা সকল স্টেকহোল্ডারকে অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণের মানদণ্ড মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।



