ভারত ও নিউজিল্যান্ডের তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের প্রথম খেলায় বাংলাদেশি শারফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ টিভি আম্পায়ার হিসেবে অংশ নিলেন। রোববার ভাদোদারায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওর্থ এবং ভারতের কেএন আনান্থাপাদ্মনাভান মূল আম্পায়ার হিসেবে মাঠে ছিলেন। শারফুদ্দৌলা আইসিসি এলিট প্যানেলের সদস্য, যার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ব্যাপক।
শারফুদ্দৌলা এখন পর্যন্ত ৩২টি টেস্ট ম্যাচে প্রধান আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাম্প্রতিক অশেস সিরিজের ব্রিসবেন টেস্টেও মূল আম্পায়ার ছিলেন। তার রেকর্ডে ১১৮টি ওডিআই এবং ৭৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের আম্পায়ারিং অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে ৪৯ বছর বয়সে অন্যতম অভিজ্ঞ বাঙালি আম্পায়ার করে তুলেছে। তিনি নারী ক্রিকেটেও সক্রিয়, ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপ, ২০১৭ ও ২০২১ নারী ওডিআই বিশ্বকাপ এবং ২০১৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রধান আম্পায়ার হিসেবে কাজ করেছেন।
শারফুদ্দৌলা সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আম্পায়ারিং করছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচে প্রধান আম্পায়ার ছিলেন। মাত্র তিন দিন পর আইসিসির ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতীয় সিরিজে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হলেন। এই পরিবর্তন তার আন্তর্জাতিক দায়িত্বের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়ার উদাহরণ।
একই সময়ে, ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশি স্পিনার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি মূল্যে তাকে দলে নিয়েছিল, তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের পর ভারতীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদে বোর্ড তাকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে কলকাতা নাইট রাইডার্সও তাকে দল থেকে মুক্তি দেয়।
মুস্তাফিজুরের বাদ দেওয়া ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ককে তীব্রতর করে তুলেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরবর্তী মাসের বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় মাটিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আইসিসিকে চিঠি লিখে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোকে অন্য দেশে স্থানান্তর করার অনুরোধ জানায়। সরকারও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
এই উত্তেজনা সমাধানের জন্য আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ রবিবার বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল উভয় দেশের ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মিটিয়ে ভবিষ্যৎ সিরিজ ও টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা।
শারফুদ্দৌলা টিভি আম্পায়ার হিসেবে এই সিরিজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের উপস্থিতি পুনরায় দৃঢ় করেছে। তার অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব ম্যাচের সুষ্ঠু পরিচালনায় সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে দুই দেশের ক্রিকেটিক বন্ধুত্বের সেতু হিসেবে কাজ করবে।
বিপিএলে শারফুদ্দৌলার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও আইসিসির ডাকে দ্রুত সাড়া দেওয়া তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত করেছে। তার উপস্থিতি উভয় দেশের ভক্তদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, যা ক্রিকেটের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াতে পারে।
সারসংক্ষেপে, শারফুদ্দৌলা ইবনে শহীদের টিভি আম্পায়ার দায়িত্ব, তার বিস্তৃত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক বাংলাদেশি ক্রিকেটের জটিল পরিস্থিতি একসাথে এই সিরিজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যতে উভয় দেশের সংস্থাগুলি এই ধরনের সহযোগিতা বজায় রাখার জন্য আরও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারে।



