ওয়াশিংটন – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি নির্দেশ জারি করে ভেনেজুয়েলা তেল থেকে আসা রাজস্বের ব্যবহার সম্পর্কে নতুন নীতি ঘোষণা করেন। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই তহবিলগুলো ভেনেজুয়েলার শান্তি, সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্যই ব্যয় করা হবে এবং কোনো ঋণদাতা বা ব্যক্তিগত দাবিদারের কাছে অর্পণ করা যাবে না। এই পদক্ষেপটি ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকটের মাঝখানে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক লক্ষ্যকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেল বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে সংরক্ষিত থাকবে এবং তা ভেনেজুয়েলার সরকারী ও কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা তৃতীয় পক্ষের নাম উল্লেখ না করেও নির্দেশটি স্পষ্ট করে যে, তহবিলের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে আমেরিকান ট্যাক্স অথরিটিতে থাকবে, ফলে ব্যক্তিগত দাবিদারদের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত না নিলে ভেনেজুয়েলার আর্থিক ও রাজনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারত। তেল রাজস্বের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নীতি ও ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রায় দুই দশক আগে, ভেনেজুয়েলা সরকার এক্সন মোবিল এবং কনকোফিলিপসের তেল সম্পত্তি জাতীয়করণ করে তাদের দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল। ঐ সময়ে উভয় কোম্পানির ভেনেজুয়েলায় বকেয়া ঋণ কয়েকশো কোটি ডলারের পরিমাণে ছিল, যা এখনও সম্পূর্ণ পরিশোধিত হয়নি। এই ঐতিহাসিক ঘটনা ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প একাধিক তেল সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পে অতিরিক্ত একশো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এক্সন, কনকো এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সময়, যুক্তরাষ্ট্রের তেল রাজস্বকে ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন প্রকল্পে ব্যবহার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। বৈঠকের পরেই ট্রাম্প তৎক্ষণাৎ এই নির্দেশ জারি করে তেল রাজস্বের ব্যবহারকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সীমাবদ্ধ করেন।
নির্দেশের মূল লক্ষ্য হল তেল থেকে প্রাপ্ত আয়কে ভেনেজুয়েলার সামাজিক ও অবকাঠামো প্রকল্পে পুনঃবিনিয়োগ করা, যাতে দেশের নাগরিকদের মৌলিক সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে, ঋণদাতাদের দাবি থেকে তহবিলকে আলাদা করে রাখা হবে, ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক দায়বদ্ধতা থেকে স্বতন্ত্রভাবে তহবিলের ব্যবহার সম্ভব হবে।
এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টকে তেল রাজস্বের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তহবিলের প্রবাহ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে এবং ভেনেজুয়েলার সরকারকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে সরকারী বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। তেল রাজস্বের ব্যবহার যদি সত্যিই শান্তি ও উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন বাড়তে পারে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল রাজস্বের ব্যবহার সম্পর্কিত আরও নির্দেশনা ও নীতিমালা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় রেখে গৃহীত হবে। বর্তমান নির্দেশটি ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের পুনরুজ্জীবন এবং দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



