ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে চায়, এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে পুতিনকে রাশিয়া থেকে ধরে এনে ন্যায়বিচার সামনে আনতে ইচ্ছুক। এই বক্তব্যটি তার কিয়েভ সফরের শেষ দিন প্রকাশিত হয়।
হিলি ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তি রক্ষার মিশনের প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাজ্য ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়ন করার পরিকল্পনা জানিয়ে দেন। এই তহবিলটি প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং মানবিক সহায়তা সহ বিভিন্ন দিককে সমর্থন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ মন্ত্রী কিয়েভে একটি ড্রোন আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন পরিদর্শনের সময় পুতিনের যুদ্ধাপরাধের উদাহরণ হিসেবে বুচা ও ইরপিনে ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক ও শিশুর ওপর চালানো সহিংসতা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের অপরাধকে উপেক্ষা করা যায় না।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) মার্চ ২০২৩-এ পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। হিলি এই আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপকে পুতিনের বিরুদ্ধে বাড়তি চাপের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বৃহস্পতিবার রাতে রাশিয়ার একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ জানায়। রাশিয়া একসঙ্গে ২৪২টি ড্রোন ও ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আকাশে আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে কিয়েভে কমপক্ষে চারজন নিহত এবং বিশজনের বেশি আহত হয়।
আক্রমণের ফলে কিয়েভের বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেয়। শহরের বাসিন্দারা অল্প সময়ের জন্য আলো ও পানির অভাবে ভুগতে বাধ্য হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সেবা চালু করে আহতদের ত্বরিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
ব্রিটিশ মন্ত্রী হিলি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার এই সামরিক কার্যকলাপের ফলে ইউক্রেনের নাগরিক অবকাঠামো ও মানবিক সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তিনি যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইউক্রেনের সরকার রাশিয়ার আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে এবং বিশ্বকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। জেলেনস্কি হিলির এই মন্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, পুতিনের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তারা যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া ইউক্রেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। হিলি এই সহায়তা বাড়িয়ে আরও বেশি প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যাতে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার আক্রমণ মোকাবেলায় সক্ষম হয়।
ইউক্রেনের নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো রাশিয়ার আক্রমণের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটের মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক দানের আহ্বান জানায়। তারা বিশেষ করে শরণার্থীদের জন্য আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য তহবিল সংগ্রহে মনোনিবেশ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, হিলির কিয়েভ সফর রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ও সামরিক চাপ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মন্তব্য ও আর্থিক সহায়তা ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষার জন্য বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।



