রবিবার ১১ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলায় বড় শালঘর ইউনিয়নের সৈয়দপুর বাজারে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা ও গনসংযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও জামায়াত জোটের কুমিল্লা‑৪ (দেবিদ্বার) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদেরকে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সমর্থন জানাতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “হ্যাঁ” ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।
হাসনাতের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি জনগণ সত্যিই চান, তবে কোনো ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। এই শর্তের ভিত্তিতে তিনি “হ্যাঁ” ভোটকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণ কি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, এবং শিক্ষার পাশাপাশি সুষ্ঠু চাকরির সুযোগসহ একটি স্বচ্ছ বাংলাদেশ চায়? এছাড়া স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালিত হওয়া দরকার, এমনই তার দাবি। এসব শর্ত পূরণে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়।
একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি দুর্নীতিকে বড় ট্যাঙ্কি হিসেবে তুলনা করেন, যার মধ্যে বহু ফাঁক রয়েছে। যতই পানি ঢালা হোক, ফাঁকগুলোতে লিক হয়ে লাভ হয় না; ফাঁকগুলোই দুর্নীতি। যদি এই ফাঁকগুলো বন্ধ করা যায়, তবে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির মতো উন্নয়নের স্রোত প্রবাহিত হবে। তাই তিনি তার নির্বাচনী প্রচারকে “দুর্নীতি বন্ধ করার নির্বাচন” হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন চাঁদাবাজমুক্ত, ঋণখেলাপিদের সংসদ থেকে বহিষ্কারের এবং তরুণ ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উপস্থিত সকলকে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।
হাসনাত স্পষ্টভাবে বলেন, তার দল কোনো গুণ্ডা-পান্ডা ব্যবহার করে না এবং ভোটারদের কোনো ভয়ভীতি দেখায় না। তিনি বলছেন, তার প্রচারাভিযান ভালবাসা ও সম্মানের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে ভোটারদের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি একজন মহিলা তাকে আট হাজার টাকা দান করেছেন এবং প্রতিদিনই কেউ না কেউ স্বেচ্ছায় অর্থ ও খাবার দিচ্ছেন।
তিনি যুক্তি দেন, চুরি বা দুর্নীতির চেয়ে ভোট ভিক্ষা করা বেশি সম্মানজনক কাজ, এবং এই ধরনের স্বেচ্ছা সহায়তা ভোটারদের সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
ইতিবাচক পরিবেশ সত্ত্বেও, র্যালির সময় কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধির উপস্থিতি বা মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি। অনুষ্ঠানটি মূলত হাসনাতের বার্তা ও তার নীতি ভিত্তিক আহ্বানে কেন্দ্রীভূত ছিল।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে এই ধরনের প্রচার কুমিল্লা‑৪ ও সমগ্র দেশের নির্বাচনী গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত ১১ ডিসেম্বর নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে। যদি ভোটাররা এই বার্তাকে গ্রহণ করে, তবে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে শক্তি পাবে এবং নির্বাচনী ফলাফলে নতুন গতিপথ গড়ে তুলতে পারে।
র্যালি শেষ হয় ভোটারদের উচ্ছ্বাসপূর্ণ চিৎকার ও “দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ” স্লোগানের সঙ্গে, যা স্থানীয় জনগণের পরিবর্তনের প্রত্যাশা ও আশাকে প্রতিফলিত করে।



