19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাঢাকায় 'হিরোজ অব দ্য ইসলামিক গোল্ডেন এজ' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ঢাকায় ‘হিরোজ অব দ্য ইসলামিক গোল্ডেন এজ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ঢাকার একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘হিরোজ অব দ্য ইসলামিক গোল্ডেন এজ’ শিরোনামের নতুন গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। লেখক ড. চামান রহিম, শিক্ষাবিদ ও গবেষক, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বইটি ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা লক্ষ্য করে রচিত, যার মাধ্যমে ইসলামিক স্বর্ণযুগের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে।

গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য হল ছোট পাঠকদের মধ্যে ইতিহাসের প্রতি কৌতূহল জাগানো, মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করা। আকর্ষণীয় গল্পের মাধ্যমে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিশুরা স্বাভাবিকভাবে জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়।

ড. চামান রহিমের শিক্ষাগত পটভূমি বিশাল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ের পল ভ্যালেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই স্তর ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এই আন্তর্জাতিক শিক্ষা তার গবেষণা ও লেখালেখিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

শিক্ষক হিসেবে তিনি ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন। এরপর ১৯৯৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দার আল হেকমা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা চালিয়ে যান। দুই দশকের বেশি সময়ে তিনি বহু কোর্স ও সেমিনার পরিচালনা করে তরুণ শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং করেছেন।

একজন গবেষক হিসেবে ড. রহিমের প্রকাশনা তালিকায় একাধিক একাডেমিক প্রবন্ধ ও বই অন্তর্ভুক্ত। দার আল হেকমা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি মডেল ইউনাইটেড নেশনস (এমইউএন) প্রোগ্রাম চালু করে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিষয়বস্তুতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। তদুপরি, কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া কার্যক্রমের সূচনা করেন, যা সেই সময়ের জন্য অগ্রণী পদক্ষেপ ছিল।

অবসর গ্রহণের পরেও ড. রহিম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন, যা তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানটি এক বিশেষ সাহিত্য সন্ধ্যা হিসেবে আয়োজন করা হয়। আয়োজক সংস্থা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, এই সন্ধ্যায় বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা, গল্পের পাঠ এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ দিলরুবা আহমেদ এবং নারী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ড. সিমীন এম. আখতার। উভয়েই শিক্ষার গুরুত্ব ও নারীর ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে বক্তৃতা দেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এমন উদ্যোগ শিশুদের ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ইসলামিক স্বর্ণযুগের উদাহরণ দিয়ে তারা দেখাতে চান যে, জ্ঞান ও নৈতিকতা একসাথে বিকাশ পেতে পারে।

বইয়ের কিছু গল্পে আল-খোয়ারিজমি, ইবনে সিনা এবং রাবি’আবের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জীবনীমূলক ঘটনা সংযোজিত হয়েছে। প্রতিটি গল্পে তাদের আবিষ্কার ও সাফল্যকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে ছোট পাঠকরা সহজে বুঝতে পারে এবং অনুপ্রেরণা পায়।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: শিশুকে বইয়ের কোনো গল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ছোট প্রকল্পে যুক্ত করুন, যেমন আল-খোয়ারিজমির অ্যালগরিদমের মৌলিক ধারণা দিয়ে সহজ গণনা গেম তৈরি করা। এভাবে পাঠের সঙ্গে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা মিলিয়ে শিক্ষার প্রভাব বাড়ানো যায়।

তুমি কি তোমার সন্তানকে এই ধরনের ঐতিহাসিক গল্পের মাধ্যমে নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করতে চাও? মন্তব্যে তোমার মতামত শেয়ার করো এবং ভবিষ্যতে আরও এমন উদ্যোগের জন্য প্রস্তুত হও।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments