19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিযুক্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিযুক্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) শারিয়া ভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে একটি পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে, যাতে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রেক্ষাপটে তার কার্যক্রমের উপর নিবিড় নজর রাখা যায়। এই পদে নিযুক্ত হলেন মি. মো. শারাফাত উল্লাহ খান, যিনি পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক। নিযুক্তি গত সপ্তাহে সম্পন্ন হয় এবং তা বিবি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন।

পর্যবেক্ষকের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বোর্ড মিটিং এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করা, যা বিবির তদারকি শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বিবেচিত। তিনি ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবেন।

পূর্বে সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকের ১৬ সদস্যের বোর্ড দুই গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে ওঠে। এক গোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, আর অন্য গোষ্ঠীকে পরিচালনা করছেন তার পুত্র ও ভাইস-চেয়ারম্যান এ.কে.এম. আবদুল আলিম। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ ব্যাংকের নীতি ও পরিচালনায় অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

বৈঠকগুলো প্রায়শই কর্মী নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তর্কে শেষ হয়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে এবং শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৩ জুন ১৯৯৯ সালে কার্যক্রম শুরু করে এবং জানুয়ারি ২০২১-এ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়ে সম্পূর্ণ শারিয়া ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে রূপান্তরিত হয়। তার পর থেকে ব্যাংকটি ইসলামী আর্থিক সেবা প্রদানকারী হিসেবে বাজারে অবস্থান করে আসছে।

বছরের পর বছর কজি আকরাম উদ্দিন আহমেদ, যিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয়, ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মোহাম্মদ আবদুল আজিজ চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করেন।

বিবি পূর্বে পরিচালিত পরিদর্শনে কজি আকরাম এবং তার পুত্র কজি খুর্রাম আহমেদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অনিয়ম প্রকাশ পায়, যা ব্যাংকের আর্থিক অবনতিতে ভূমিকা রাখে বলে বিবি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনিয়মগুলো মূলত ঋণ প্রদান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ছিল।

সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, গত বছরের শেষের দিকে ব্যাংকের ডিফল্ট ঋণ ৫,৮৮৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২৯.১৪ শতাংশ গঠন করে। একই সময়ে ২০২৪ সালে ক্লাসিফাইড ঋণ ১,৬৭৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮.৬২ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানগুলো ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওতে উল্লেখযোগ্য চাপ নির্দেশ করে।

পর্যবেক্ষক নিযুক্তি ব্যাংকের শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তদুপরি, এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তদারকি বাড়লে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সমাধান দ্রুততর হতে পারে এবং ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া স্থিতিশীল হতে পারে। তবে, বর্তমান বিভাজন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ব্যাংকের বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা ও ঋণ মানের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে ব্যাংকের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments