ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক পদক‑২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সঙ্গে সমন্বয় করে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, সত্যিকারের সংস্কার চাইলে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
রবিবার সকালে ডিএনসিসি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি দেশের তরুণ সমাজকে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করার প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। পদক‑২০২৫ প্রদানীর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদেরকে রিজওয়ানা হাসান পুরস্কার পাওয়ার পর বাড়তি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
উল্লেখযোগ্য যে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের ক্ষমতার কাঠামোকে শাসক গোষ্ঠী থেকে জনগণের হাতে সরিয়ে নেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই গণভোটের ফলাফল দেশের শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া স্বৈরাচার শেষ হওয়ার পরও গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ রূপ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই যুব সমাজকে গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে তারা ভোটাধিকার ব্যবহার করে দেশের নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য প্রতিটি নাগরিককে তার ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে, এ কথায় রিজওয়ানা হাসান জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরাচার শেষ হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণতন্ত্রের আগমন ঘটে না; নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণই মূল চালিকাশক্তি।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের জন্য রিজওয়ানা হাসান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, পুরস্কার পাওয়া মানে তাদের কাজের আলোকে আরও বেশি দায়িত্ব যুক্ত হয়। জনগণ যখন তাদের কাজের ফলাফল দেখে, তখনই তারা আরও উন্নত সেবা প্রদান করতে সক্ষম হয়। তাই পুরস্কারকে দায়িত্বের মাত্রা বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, লেখক ও বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে রিজওয়ানা হাসানের মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ শাসনব্যবস্থার মূল কাঠামোকে পরিবর্তন করার সুযোগ পাবে। এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরকার ও নির্বাচনী কমিশনকে ভোটার তালিকা আপডেট, নিরাপদ ভোটদান ব্যবস্থা এবং ফলাফল প্রকাশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, রিজওয়ানা হাসান ভোটের গুরুত্ব, যুব সমাজের ভূমিকা এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে একটি সমন্বিত বার্তা প্রদান করেছেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।



