ইরানে চলমান বিরোধী-সরকারি প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইরানের বিপুল সংখ্যক প্রতিবাদকারী এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের সামরিক পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল সরকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি সভা করেছে। এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং অঞ্চলের কূটনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানে গত কয়েক মাসে সর্ববৃহৎ সরকারবিরোধী প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে রেভল্যুশনারি গার্ডের একটি ইউনিট নিরাপত্তাকে “লাল রেখা” হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। গার্ডের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা সরকারি সম্পদ ও জননিরাপত্তা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। এই ঘোষণার পর থেকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ে এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইরানে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পুনরায় দিয়েছেন। তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ইসরায়েল সরকার এই বিকাশকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরানের সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রভাব বিশ্লেষণ করে জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করছেন। একই সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ইরানে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে ফোনালাপ হয়েছে। এই আলোচনায় উভয় পক্ষের কূটনৈতিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
মার্কিন সরকারও নেতানিয়াহু ও রুবিওর মধ্যে কথোপকথন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে, যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে সংযোগকে স্পষ্ট করে।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের পূর্ববর্তী উত্তেজনা জুন মাসে ১২ দিনের সামরিক সংঘর্ষে শীর্ষে পৌঁছেছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের অনুরোধে ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষের পর থেকে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ এবং সামরিক প্রস্তুতি বাড়ে। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের ওপর ইসরায়েলের উদ্বেগ এই উত্তেজনার মূল কারণ।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে ইরান যদি ইসরায়েলে আক্রমণ চালায় তবে তা মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি চলমান প্রতিবাদকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দৃষ্টিতে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সব ঘটনার সমন্বয়ে ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ এবং ইসরায়েলের উচ্চ সতর্ক অবস্থার সমন্বয় অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে। উভয় পক্ষের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে তীব্র আলোচনা চালু রয়েছে, এবং পরবর্তী সপ্তাহে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে ইরানের প্রতিবাদ দমন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ইসরায়েলের কৌশলগত পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। ইসরায়েল তার সীমান্ত রক্ষা এবং আকাশীয় সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত সেনা ও বিমানবাহিনীর মোতায়েন বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং পারমাণবিক প্রকল্পের ওপর চাপ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতার নতুন রূপ তৈরি করতে পারে।



