27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিউপদেষ্টা রিজওয়ানা ভোটের আগে চিন্তা করার আহ্বান দিলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দু'বার ভোট...

উপদেষ্টা রিজওয়ানা ভোটের আগে চিন্তা করার আহ্বান দিলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দু’বার ভোট দিতে হবে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রোববার (১১ জানুয়ারি) গুলশান‑২ নগর ভবনে অনুষ্ঠিত নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ভোটের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের নাগরিকদের দু’টি ভোট দিতে হবে – প্রথমটি সংসদীয় নির্বাচনের জন্য এবং দ্বিতীয়টি গণভোটের জন্য।

রিজওয়ানা বলেন, ভোটের আগে কাকে সমর্থন করবেন তা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার, যাতে পরে কোনো অনুতাপ না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শাসক গোষ্ঠীর ভার জনগণের হাতে রাখতে হলে, ভোটের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। এই দুইটি ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখযোগ্য যে, রিজওয়ানা একই সময়ে দেশের সংস্কারপ্রবণ নাগরিকদের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, যদি এই সুযোগটি হেয়ালাভাবে হারিয়ে যায়, তবে ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের সুযোগ বহু বছর পর্যন্ত ম্লান হতে পারে।

বক্তব্যের মধ্যে তিনি দেশের ভয়কে জয় করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রিজওয়ানা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাস জুড়ে ভয়কে পরাস্ত করে এসেছে এবং তরুণ প্রজন্মের আত্মবিসর্জনকে গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়তে সহায়তা করেছে। তিনি এই আত্মবিসর্জনের প্রতিফলন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে দেখতে চান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নাগরিক দায়িত্ববোধ ও নগর উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নাগরিক পদক‑২০২৫’ প্রদান করা হয়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা শহরের উন্নয়নে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়।

ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, লেখক ও গণবুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান এবং ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতা রিজওয়ানার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, ভোটের আগে প্রার্থীদের নীতি ও কর্মসূচি বিশ্লেষণ করার পরামর্শ দেন। তারা জোর দেন, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ভোটের আগে ভোটারদের জন্য তথ্যবহুল প্রচার চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তারা ভোটারদেরকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানায়।

রিজওয়ানার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদেরকে দ্বিগুণ ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য উদ্দীপনা জোগানো। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণই দেশের শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে।

অনুষ্ঠানের শেষে, রিজওয়ানা উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে, নাগরিকদের দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য প্রশংসা করেন। তিনি পুনরায় জোর দেন, ভোটের আগে যথাযথ বিশ্লেষণ এবং চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

এই বক্তৃতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সরকারী ও বিরোধী উভয় পক্ষই ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

ভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলো ভোটার শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে। এই উদ্যোগগুলো ভোটারদেরকে প্রার্থীর নীতি, পার্টির কর্মসূচি এবং গণভোটের প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করবে।

সামগ্রিকভাবে, রিজওয়ানার আহ্বান এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার দিকে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ভোটের আগে যথাযথ প্রস্তুতি ও সচেতনতা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments