পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হোসেন গুলশানে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ক্ষমতার ভার জনগণের হাতে স্থানান্তর করতে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে বড় এবং স্বৈরাচারী শাসনকে চ্যালেঞ্জ করতে এই ভোটের সঠিক ব্যবহার অপরিহার্য।
রিজওয়ানা হোসেনের মতে, গণতন্ত্রের ভিত্তি হল প্রতিটি নাগরিকের তার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং তা ব্যবহার করার ইচ্ছা। তিনি বলেন, “সত্যিকারের ক্ষমতার ভর যদি সরকার থেকে জনগণের কাছে নিতে চান, তাহলে সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে।” এ কথা বলার সময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে স্বৈরাচারী প্রবণতার প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন এবং নাগরিকদেরকে ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশের আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও একই অনুষ্ঠানে মত প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্যাতন ও পুরনো শাসনব্যবস্থার দিকে ফিরে না গিয়ে গণভোটের মাধ্যমে নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা দরকার। “আধিপত্যের কাছে বাংলাদেশ আর কখনও মাথা নত করবে না, এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা,” তিনি যোগ করেন, যা রিজওয়ানার বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উল্লেখযোগ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক সূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। রিজওয়ানা হোসেনের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তরুণ ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণ ভোটের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে, পূর্বে ভোটে কম অংশগ্রহণকারী গোষ্ঠীগুলি এখন সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে, যা সরকারকে জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশার প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তুলবে।
অধিকন্তু, রিজওয়ানা হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী কমিশন কর্তৃক পরিচালিত রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত তথ্য প্রচারের অনুরোধের প্রেক্ষাপট যুক্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে গণভোটের ফলাফল সত্যিকারের জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করতে পারবে না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকার ও স্বাধীন সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হল ভোটারদের জন্য সঠিক তথ্য সরবরাহ করা এবং ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা চালু করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রিজওয়ানা হোসেনের মন্তব্যকে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখছেন, যা বর্তমান শাসনব্যবস্থার স্বৈরাচারী প্রবণতা মোকাবেলায় নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। তিনি উল্লেখ করেন, “শুধু স্বৈরাচার চলে গেল তাতে খুশি হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই,” যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
আদিলুর রহমান খানও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন, নির্যাতন ও পুরনো শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে গণভোটই একমাত্র কার্যকর উপায়। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভোটের ভূমিকা নিয়ে জোর দেন এবং নাগরিকদেরকে তাদের অধিকার ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেন।
এই বক্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান, এবং রিজওয়ানা হোসেনের মতামত ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারকে জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণে বাধ্য করা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, রিজওয়ানা হোসেন ও আদিলুর রহমান খান উভয়েই একমত যে গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার ভার জনগণের হাতে স্থানান্তর করা সম্ভব, তবে তা শুধুমাত্র সচেতন ও সক্রিয় ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে। তাদের আহ্বান দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে ভোটের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করে এবং নাগরিকদেরকে তাদের অধিকার ব্যবহার করার জন্য প্রেরণা যোগায়।



