28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাএক্সেটার সিটি ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে FA কাপ তৃতীয় রাউন্ডের আগে প্রস্তুতি

এক্সেটার সিটি ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে FA কাপ তৃতীয় রাউন্ডের আগে প্রস্তুতি

এক্সেটার সিটি দলের কোচ গ্যারি কল্ডওয়েল ফাইনাল ম্যাচের আগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে FA কাপের তৃতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হতে দু’ঘণ্টা আগে হোটেলে খেলোয়াড়দের সমবেত করে একটি প্রেরণামূলক বক্তৃতা দেন। তিনি “আজ জয় নাও, ছেলেরা” বলে শুরু করেন এবং দলের মনোভাবকে উঁচু করতে চেয়েছিলেন। এই কথার পেছনে ২০১৩ সালে রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে উইগ্যানের একই ধরনের উক্তি রয়েছে, যা তখনও অপ্রত্যাশিত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সময় হাস্যরসের মাধ্যমে চাপ কমাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। কল্ডওয়েল এই পদ্ধতি পুনরায় ব্যবহার করে এক্সেটারকে আত্মবিশ্বাসী করতে চেয়েছেন, যদিও ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।

হোটেলে সমাবেশের সময় কল্ডওয়েল স্কটিশ উচ্চারণে তার কথা চালিয়ে যান এবং ব্যাখ্যা করেন যে উক্তিটি উইগ্যানের ওয়েম্বলি জয়কে স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন তারা একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত বিজয় অর্জন করেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এক্সেটারও এখন অনুরূপ অপ্রত্যাশিত অবস্থানে রয়েছে, যদিও পার্থক্য হল ম্যানচেস্টার সিটি তাদের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। এই তুলনা দলের মনোভাবকে সমন্বয় করার পাশাপাশি তাদেরকে অপ্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসের ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা করে।

প্রশিক্ষণ দিনের শুরুতে পুরো স্টাফ একটি পার্করানে দৌড়ে অংশ নেয়, যা হোম গেম হোক বা আউটডোর গেম হোক, একটি ঐতিহ্যবাহী রীতি হিসেবে চালিয়ে আসা হয়েছে। ডেভিড পারকিন্স, যিনি কল্ডওয়েল যখন উইগ্যানের ২০১৬ লিগ ওয়ান শিরোপা জিতেছিলেন তখন প্রথম সাইনিং ছিলেন, সর্বদা দৌড়ে প্রথমে পৌঁছান। তার ঘন ঘন ঘুমের শব্দের কারণে হেড ফিজিওলজিস্ট মাইকেল ম্যাকব্রাইডের গতি কিছুটা ধীর হয়ে যায়, তবে দুজনেরই উপস্থিতি দলের শারীরিক প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পার্করানের পর সবাই হোটেলের পুলে যায়, যেখানে কল্ডওয়েল সামান্য অস্বস্তি বোধ করে এবং কেবল ত্রিশ ল্যাপ সাঁতার কাটতে পারেন।

পুলের সেশনের পরে দলটি কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ ব্রাঞ্চ গ্রহণ করে, যা খেলোয়াড় ও স্টাফ উভয়ের জন্য শক্তি পুনরায় সঞ্চার করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। খাবারের পর একটি স্টাফ-শুধু প্রি‑মর্টেম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কোচিং স্টাফ এবং ফিজিওলজি টিম একত্রে ম্যাচের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। তারা জয়, হার এবং ড্রের বিভিন্ন সম্ভাবনা মডেল করে, যাতে গেমের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদিও এই বিশ্লেষণগুলো চূড়ান্ত নয়, তবু গেমের তীব্র মুহূর্তে মানসিক রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।

কোচ কল্ডওয়েল বলেন, সর্বোত্তম কোচ এবং সর্বোত্তম দিনগুলো প্রায়শই স্বজ্ঞা এবং গরম মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তিনি দলের সদস্যদেরকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করেন, তবে একই সঙ্গে পরিকল্পিত কৌশলকে অগ্রাধিকার দেন। তার নেতৃত্বের শৈলী কঠোর নয়, বরং সমন্বিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে প্রত্যেকের মতামত শোনা হয়। প্রতিটি আলোচনার শেষে তিনি সবসময় “কেউ কি ভিন্ন মতামত রাখে?” জিজ্ঞাসা করেন, যা সত্যিকারের মতবিরোধের সুযোগ দেয়।

এই সহযোগিতামূলক পদ্ধতি দলের মধ্যে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কল্ডওয়েল নিজে শেষ সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি সকলের ইনপুটকে গুরুত্ব দেন এবং শেষ মুহূর্তে কোনো বিরোধী মতামত থাকলে তা স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। তার এই উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি খেলোয়াড়দেরকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামতে সাহায্য করে, যদিও তারা বড় দলের মুখোমুখি হতে চলেছে। স্টাফের মধ্যে এই ধরনের সমন্বয়মূলক কাজগুলোকে তিনি দলের মানসিক প্রস্তুতির মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অবশেষে, এক্সেটার সিটি দলটি হোটেল থেকে বেরিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির এথিয়াড স্টেডিয়ামে যাত্রা করে। গ্যারি কল্ডওয়েল এবং তার স্টাফের প্রস্তুতি, পার্করান, পুল, ব্রাঞ্চ এবং প্রি‑মর্টেম বিশ্লেষণ সবই একসাথে দলকে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছে। এখন সময় এসেছে এই প্রস্তুতি মাঠে কতটা ফলপ্রসূ হয় তা দেখার, যখন এক্সেটার সিটি ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে তার স্বপ্নের ম্যাচে পা রাখবে।

৮৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: The Guardian – Football
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments