28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাঢাকা‑চট্টগ্রাম দূরত্ব কমাতে ডেডিকেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রেল সংযোগের প্রস্তাব

ঢাকা‑চট্টগ্রাম দূরত্ব কমাতে ডেডিকেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রেল সংযোগের প্রস্তাব

ঢাকা ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করা মূল রুটে গতি বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ কমাতে একাধিক ব্যবসায়িক নেতা একত্রিত হয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক উল্লেখ করেন, যদি একক‑উদ্দেশ্য এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা যায়, তবে বর্তমান সময়ের চেয়ে অর্ধেক কমে মাত্র দুই ঘন্টা ত্রিশ মিনিটে দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, রেলপথে ভৈরব স্টেশন বাদ দিয়ে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করলে ট্রেনের যাত্রা সময়ও প্রায় দুই ঘন্টা ত্রিশ মিনিটে নেমে আসবে, যেখানে বর্তমানে পাঁচ‑ছয় ঘণ্টা সময় লাগে।

এই প্রস্তাবের পেছনে পরিবেশগত দিকটিও রয়েছে। হক বলেন, নদী পথে পণ্য পরিবহন করলে খরচ মাত্র দশ ভাগে কমে যায় এবং দূষণও একই অনুপাতে হ্রাস পায়। সড়ক ব্যবহার করলে যে মাত্রা পর্যন্ত দূষণ হয়, তা নদী পথে এক ভাগে নেমে আসে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, নদী বন্দর এখনো কার্যকর না হওয়ায় এই সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়, ফলে পরিবেশগত সুরক্ষা ততটা অর্জিত হচ্ছে না।

ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কের ক্ষমতা বাড়ানোর কথাও আলোচনায় উঠে আসে। রাশিদুল হাসান, যিনি রেলওয়ে ও সড়ক সংযোগের বিশ্লেষক, উল্লেখ করেন, যদি বর্তমান মহাসড়ককে আট বা দশ লেনের করে সম্প্রসারিত করা হয়, তবে অঞ্চলের সংযোগযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এই ধরণের অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে এবং লজিস্টিক্স খরচ কমাবে।

বিষয়টি নিয়ে রাউন্ডটেবিল সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার শিরোনাম “চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে”। এই সভা প্রথম আলো দ্বারা আয়োজিত এবং জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ব্যবসায়িক নেতারা চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। হক উল্লেখ করেন, বিনিয়োগ বোর্ডের অফিস চট্টগ্রামে ছিল, তবু ডিএস শিপিং অফিস ঢাকায় অবস্থিত। তিনি মুম্বাই ও নিউইয়র্কের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তুলতে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

অন্য একটি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে আলমাস শিমুল চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন সংযোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক আকর্ষণ বাড়বে এবং রপ্তানি‑আমদানি কার্যক্রমে গতি আসবে। এ ধরনের এয়ারলাইন উদ্যোগের জন্য অবকাঠামো প্রস্তুতি, এয়ারপোর্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন পার্টনারশিপ গঠন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সর্বোপরি, ঢাকা‑চট্টগ্রাম রুটের গতি ও দক্ষতা বাড়াতে একাধিক স্তরে উদ্যোগের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ে, সরাসরি রেল সংযোগ, মহাসড়ক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা—এই সবই একসাথে কাজ করলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হবে। তবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি অনুমোদন, তহবিল সংগ্রহ এবং পরিবেশগত মূল্যায়নসহ বহু ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হল লজিস্টিক্স খরচ কমিয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা, একই সঙ্গে পরিবেশগত দায়িত্ব পালন করা। যদি পরিকল্পিত এক্সপ্রেসওয়ে ও রেল প্রকল্পগুলো সময়মতো সম্পন্ন হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকার মধ্যে বাণিজ্যিক প্রবাহে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments