ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (DIFF) ২৪তম সংস্করণে দ্বিতীয় দিন উদযাপন করেছে। উৎসবটি ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবং এই সময়ে ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। ঢাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্থানে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে এই ইভেন্টটি দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি বিশাল সমাবেশের রূপ নেয়।
দ্বিতীয় দিনটি শুরু হয় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান অডিটোরিয়ামে, যেখানে কিউবার “দ্য ইম্পেকেবল টাইমস অফ পাব্লো” এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার “ওয়্রেক” প্রথমে প্রদর্শিত হয়। পরের স্লটে বেলজিয়ামের “নট আলোন” এবং চীনের “মাই ফাদার্স সন” দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়। এই দুই চলচ্চিত্রের পরে একটি সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্রের ব্লক উপস্থাপিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের “কালারস অফ হোপ”, “ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড”, “প্রত্যাবর্তন”, “মিখাইল”, “ইনভিজিবল ওয়াল” এবং “মায়া”। যুক্তরাজ্যের “ইন্টিমেট অবজেক্টস”ও এই ব্লকে অন্তর্ভুক্ত ছিল। দিনটির সমাপ্তি হয় তানভীর নূরের বাঙালি চলচ্চিত্র “উৎসব” দিয়ে, যা দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস জাগিয়ে তুলেছিল।
সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে ইরানের “দ্য বানানা গার্ডেন”, আর্জেন্টিনার “ফর ইউর সেক” এবং তাজিকিস্তানের “ভয়েসেস অফ দ্য মাউন্টেনস” পাশাপাশি চীনের “কুইংটং অ্যান্ড কাইহুয়া” প্রদর্শিত হয়। এই চারটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকরা এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং মধ্য এশিয়ার বৈচিত্র্যময় গল্পে ডুবে যায়।
বাংলাদেশ শিলপকলা একাডেমির ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি অডিটোরিয়ামে ভারতের “আজার”, ফিলিপাইনের “দিস প্লেস”, চেক প্রজাতন্ত্রের “রেইনবোরের টেল” এবং সিঙ্গাপুরের “আল আওদা” উপস্থাপিত হয়। এই সেশনটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের চলচ্চিত্রশিল্পের সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
অ্যালায়েন্স ফ্রাঁসেজ দে ঢাকা তিনটি পৃথক সময়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। সকালে শ্রীলঙ্কার “পানট্রাম”, বিকেলে একই “দিস প্লেস” এবং সন্ধ্যায় তাজিকিস্তানের “ফিশ অন দ্য হুক” দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়। এই প্রোগ্রামটি আন্তর্জাতিক স্বাদকে ঢাকার হৃদয়ে নিয়ে আসে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির সংলাপকে উৎসাহিত করে।
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে পাপুয়া নিউ গিনির “পাপা বুকা”, রাশিয়ার “দ্য লেটার”, চীনের “দ্য শোর অফ লাইফ” এবং ইরানের “দ্য বানানা গার্ডেন” প্রদর্শিত হয়। এই চলচ্চিত্রগুলো ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী হলেও একসাথে মঞ্চে এসে দর্শকদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে।
উৎসবের সব প্রোগ্রামই বিনামূল্যে এবং শহরের বিভিন্ন কোণে ছড়িয়ে রয়েছে, যা ঢাকাকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের একটি মিলনস্থল হিসেবে গড়ে তুলেছে। দর্শকরা সহজে যাতায়াত করে বিভিন্ন স্থানে একাধিক চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারছেন, ফলে শহরের সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন রঙ যুক্ত হয়েছে।
DIFF-এর এই দ্বিতীয় দিনটি শুধুমাত্র চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী নয়, বরং সংস্কৃতির বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগও প্রদান করেছে। ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ প্রোগ্রাম এবং বৃহত্তর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিবেশকে আরও উজ্জ্বল করবে।



