কয়েকদিনের তীব্র সংঘর্ষের পর রোববার ভোরে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়, যার ফলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) আলেপ্পো শহর থেকে প্রস্থান করে।
বিবিসি সূত্রে জানা যায়, এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভোরের আগে প্রকাশিত হয়, যা অঞ্চলে অবস্থা স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এসডিএফের প্রধান মজলুম আবদি আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন, যেখানে শহীদ, আহত এবং আটকে থাকা বেসামরিক ও যোদ্ধাদের নিরাপদে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত শহর শেখ মাকসুদ থেকে বাসে করে এসডিএফের অবশিষ্ট যোদ্ধারা আলেপ্পো ত্যাগের পথে দেখা গেছে।
পটভূমিতে দেখা যায়, নতুন সিরিয়ান সরকারের কুর্দি প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনার অচলাবস্থা কয়েক দিন আগে নতুন সংঘর্ষের সূত্রপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই সাম্প্রতিক সহিংসতায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়া এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
সিরিয়ান সেনাবাহিনী বুধবার বিকেলে ওই অঞ্চলকে ‘নিষিদ্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করে, ফলে তীব্র গোলাবারুদ চালনা শুরু করে।
এসডিএফ এই আক্রমণকে বেসামরিক জনসংখ্যাকে জোরপূর্বক উৎখাতের ‘অপরাধমূলক প্রচেষ্টা’ বলে অভিযুক্ত করেছে, এবং উল্লেখ করেছে যে আলেপ্পোতে তাদের সামরিক উপস্থিতি সীমিত ছিল।
সংঘাতের প্রথম দুই দিনেই উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল, তবে সেই চুক্তির অধীনে শেষ শক্ত ঘাঁটি শেখ মাকসুদ ত্যাগের বিষয়ে এসডিএফ অস্বীকৃতি জানায়। রোববারের পুনঃসমঝোতার পর শেষ পর্যন্ত তারা এলাকা ত্যাগে সম্মত হয়।
গত বছরের মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এসডিএফ তাদের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিরিয়ান রাষ্ট্রে একীভূত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তবে প্রায় এক বছর পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।
এই যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো মধ্যস্থতায় অংশ নিয়েছে; তারা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ফলে তুরস্কের সরাসরি জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তুরস্ক, যা সিরিয়ান সরকারের ঘনিষ্ঠ সমর্থক, কুর্দি মিলিশিয়াকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাদের অস্ত্রশক্তি সীমিত করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এসডিএফের এই প্রত্যাহার কৌশলগতভাবে ক্ষতি কমিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আলোচনার জন্য তাদের অবস্থান বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ হতে পারে।
যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এখনো অনিশ্চিত; পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এবং কুর্দি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।



