কক্সবাজারের টেকনাফে গৃহবাড়ির উঠানে খেলছিলেন যখন মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশুর মাথা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। গুলিবিদ্ধ শিশুটি তৎক্ষণাৎ স্থানীয় চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়।
আহত শিশুর নাম আপনা আকতার, তিনি হোয়াইক্যং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিনের পুত্র এবং হোয়াইক্যং লম্বাবিলের হাজি মোহাম্মদ হোসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। গুলির আঘাত তার মাথায় সরাসরি পড়ে, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে অস্থায়ী সমস্যার সম্মুখীন হন।
সকালবেলায় আপনা আকতার নিজের বাড়ির উঠানে অন্য শিশুর সঙ্গে খেলছিলেন। হঠাৎই সীমান্তের দিকে থেকে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং এক গুলি তার মাথায় আঘাত করে। গুলির উৎস মিয়ানমার সীমান্তের রাকাইন এলাকায় চলমান সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চিকিৎসা দল দ্রুত শিশুটিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক সেবা প্রদান করে, পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের ডাক্তারদের মতে, গুলির আঘাতের কারণে শিশুর মাথায় ক্ষত হয়েছে, তবে জরুরি শল্যচিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তার জীবনরক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
আহত শিশুর অবস্থা সম্পর্কে জানার পর, টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় গিয়ে হাইওয়ে অবরোধ করেন। তারা গুলিবিদ্ধ শিশুর নিরাপত্তা ও সীমান্তে চলমান গুলিবিদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চায়। অবরোধের ফলে প্রধান হাইওয়ে ট্রাফিক ব্যাহত হয়েছে এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম গুলিবিদ্ধ ঘটনার পর স্থানীয়দের সতর্কতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তে চলমান গুলিবিদ্ধের ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকা জরুরি।
গত চার দিন ধরে হোয়াইক্যং সীমান্তের রাকাইন এলাকায় গুলিবিদ্ধ ও বোমা বিস্ফোরণ চালু রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সীমান্তে অস্থিরতা বাড়ছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। গুলির দিকনির্দেশনা, গুলির ক্যালিবার এবং সম্ভাব্য শুটার সনাক্তকরণের জন্য ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া, গুলিবিদ্ধ শিশুর পরিবারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ রক্ষী ব্যবস্থা প্রদান করেছে।
প্রাথমিক তদন্তের পাশাপাশি, হাইওয়ে অবরোধের আইনগত দিকও বিশ্লেষণ করা হবে। অবরোধে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টি ও জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন অবরোধের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
অধিকন্তু, গুলিবিদ্ধ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে গুলিবিদ্ধের দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য উভয় দেশের নিরাপত্তা দপ্তরকে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলিও এই ধরনের সীমান্ত সংঘাতের মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা পুনরায় নিরাপদ পরিবেশের দাবি জানিয়ে, সীমান্তে গুলিবিদ্ধ বন্ধের জন্য সরকারী হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, গুলিবিদ্ধের ফলে শিশু ও সাধারণ নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং তা অবিলম্বে থামাতে হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে। তদন্তের ফলাফল অনুসারে, গুলিবিদ্ধের দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পর, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা দল আপনা আকতারকে পর্যবেক্ষণে রাখবে এবং প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করবে। পরিবারকে শিশুর স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে।
সীমান্তে চলমান অশান্তি ও গুলিবিদ্ধের প্রভাব কমাতে, সরকারী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করে নিরাপদ স্থানে থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি থেকে দূরে থাকা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



