রবিবার গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজন করা নাগরিক দায়িত্ব, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও নগর উন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটদান শুধুমাত্র সাধারণ নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে, আসন্ন গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণই সংস্কার বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি।
ইভেন্টে উপস্থিত নাগরিক ও কর্মীদের সামনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সরাসরি জনগণের হাতে সংস্কারের প্রস্তাবনা পৌঁছাতে হলে গণভোটের ফলাফলকে সম্মান করা আবশ্যক। এ জন্য ভোটারদের ভয়ভীতি দূর করা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
উপদেষ্টা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ভোটারদের ভীত করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট রূপ নেয়। বিভিন্ন রূপে হুমকি, গুজব ও চাপের মাধ্যমে মানুষকে ভোট না দিতে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ইতিমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই‑আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত কিছু আন্দোলন সফল হয়েছে কারণ সেই সময়ে ভয়কে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিল। তবে পূর্বে অনুষ্ঠিত আন্দোলনগুলো চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, মূল কারণ ছিল ভয়কে জয় করতে না পারা।
এই ব্যর্থতার পেছনে ভয়ের নানা রূপের ব্যবহার ছিল, যা জনগণকে অনিশ্চিত ও অনুপ্রাণিত রাখার উদ্দেশ্যে চালু ছিল। উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানেও একই ধরনের ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে এবং তা ত্বরান্বিতভাবে মোকাবিলা করা দরকার।
বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসে বহুবার ভয়কে পরাস্ত করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অর্জন করেছে। তিনি এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে আহ্বান জানান।
তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও আত্মবিসর্জন এই সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি। তারা সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে ইচ্ছুক এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের ফলাফলই আমাদের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নির্ধারণ করবে। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা উচিত।
এ মুহূর্তে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ভোটারদের ভয়কে কমিয়ে আনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে গণভোটের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তবে সরকারী পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তথ্যপ্রচারের মাধ্যমে এই উদ্বেগ দূর করার প্রচেষ্টা চালু রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই ইভেন্টে উপস্থিত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক গোষ্ঠীও একই দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছে। তারা ভোটারদের স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করে এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।
সামগ্রিকভাবে, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা গুলশানে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা ভোটারদের আত্মবিশ্বাস জোরদার করে এবং গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়। তিনি শেষ করে বলেন, “যদি সংস্কার চান, তবে গণভোটে অংশ নিন এবং আপনার ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠন করুন।”



