বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, গ্রাহকদের জন্য একই মাসিক মূল্যে ইন্টারনেটের গতি সর্বোচ্চ তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই দ্রুত সংযোগ উপভোগ করতে পারবেন।
বিটিসিএল উল্লেখ করেছে যে, প্যাকেজের দাম অপরিবর্তিত রেখে গতি বাড়ানো হবে, ফলে সাশ্রয়ী মূল্যের প্যাকেজগুলোও উচ্চমানের সেবা পাবে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৯৯ টাকায় ৫ Mbps ‘সুলভ‑৫’ প্যাকেজটি এখন ২০ Mbps ‘সাশ্রয়ী‑২০’ হিসেবে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে। একইভাবে, ৫০০ টাকায় ১২ Mbps ‘সুলভ‑১২’ প্যাকেজটি ২৫ Mbps ‘সাশ্রয়ী‑২৫’ হয়ে উঠেছে।
অধিকন্তু, ৬০০ টাকায় ১৫ Mbps ‘ক্যাম্পাস‑১৫’ প্যাকেজটি এখন ৫০ Mbps ‘ক্যাম্পাস‑৫০’ হিসেবে আপডেট হয়েছে। মধ্যম স্তরের প্যাকেজগুলোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে; ৮০০ টাকায় ১৫ Mbps ‘সুলভ‑১৫’ এখন ৫০ Mbps ‘সাশ্রয়ী‑৫০’, ১,০৫০ টাকায় ২০ Mbps ‘সুলভ‑২০’ প্যাকেজটি ১০০ Mbps ‘সাশ্রয়ী‑১০০’ এবং ১,১৫০ টাকায় ২৫ Mbps ‘সুলভ‑২৫’ প্যাকেজটি ১২০ Mbps ‘সাশ্রয়ী‑১২০’ হয়ে গেছে।
উচ্চতর গতি চাহিদা সম্পন্ন গ্রাহকদের জন্যও সমান নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে। ১,৩০০ টাকায় ৩০ Mbps ‘সুলভ‑৩০’ প্যাকেজটি এখন ১৩০ Mbps ‘সাশ্রয়ী‑১৩০’, ১,৫০০ টাকায় ৪০ Mbps ‘সুলভ‑৪০’ প্যাকেজটি ১৫০ Mbps ‘সাশ্রয়ী‑১৫০’ এবং ১,৭০০ টাকায় ৫০ Mbps ‘সুলভ‑৫০’ প্যাকেজটি ১৭০ Mbps ‘সাশ্রয়ী‑১৭০’ হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বিটিসিএল আরও জানিয়েছে যে, কিছু অন্যান্য প্যাকেজেও অনুরূপ গতি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যদিও সেগুলোর বিশদ এখানে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে, অধিকাংশ গ্রাহকই এখন একই মূল্যে দ্রুততর ইন্টারনেট সেবা পেতে সক্ষম হবেন।
প্যাকেজের সঙ্গে ১০০ টাকার অতিরিক্ত যোগফলে টেলিফোন সংযোগ যুক্ত করা যাবে, এবং বিটিসিএল কল সম্পূর্ণ ফ্রি হবে। এই সুবিধা ব্যবহার করতে গ্রাহকদের শুধু অতিরিক্ত ১০০ টাকা প্রদান করলেই যথেষ্ট।
সেবার জন্য আবেদন করতে গ্রাহকরা বিটিসিএল-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট mybtcl.btcl.gov.bd অথবা টেলিসেবা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া, ১৬৪০২ নম্বরে কল করে সরাসরি সহায়তা নেওয়াও সম্ভব।
বিটিসিএল উল্লেখ করেছে যে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল গ্রাহকদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য, দ্রুত এবং মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
দ্রুতগতির ইন্টারনেটের প্রাপ্যতা বাড়লে শিক্ষাক্ষেত্র, ব্যবসা ও সরকারি সেবা সব ক্ষেত্রেই কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দূরশিক্ষা, অনলাইন ব্যবসা এবং ই-গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে এই আপডেটের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে।
গত বছরগুলোতে ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তবে এইবার বিটিসিএল মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে গতি বাড়িয়ে গ্রাহকদের উপকারে আসার চেষ্টা করেছে।
সারসংক্ষেপে, একই মূল্যে গতি তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো গ্রাহকদের জন্য একটি স্বাগত পরিবর্তন, যা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।



