চিরঞ্জীবি প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করা, ববির পরিচালিত একটি অপ্রকাশিত তেলুগু চলচ্চিত্রে বড় তারকার ক্যামিও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে প্রধান অভিনেতা মোহনলাল ফি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এই অংশ থেকে সরে গেছেন।
তেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পে সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। বহু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বাজেট সংকটে ভুগছে এবং কিছু প্রকল্পই আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছে। এই নতুন চলচ্চিত্রটিও এমনই একটি আর্থিক বাধার সম্মুখীন হয়েছে।
প্রকল্পটি এখনও শিরোনামবিহীন, তবে চিরঞ্জীবি প্রধান চরিত্রে উপস্থিত থাকবেন এবং ববি পরিচালনা করবেন বলে জানা যায়। প্রযোজকরা ছবিটিকে বড় স্ক্রিনে সফল করতে উচ্চমানের সহায়ক চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
ক্যামিওর ধারণা ছিল একটি বিশিষ্ট নায়কের উপস্থিতি, যা ছবির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনবে। এই ধরনের ক্যামিও তেলুগু সিনেমায় আগে দেখা গেছে, যেমন রাজিনিকান্তের ‘আন্ধা কানুন’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের স্মরণীয় উপস্থিতি।
ববির দল মোহনলালকে এই ক্যামিওয়ের জন্য আহ্বান জানায়, কারণ উভয় অভিনেতার বাস্তব জীবনে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং তা দর্শকদের কাছে ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠাবে বলে ধারণা করা হয়। প্রাথমিক আলোচনায় উভয় পক্ষই একমত ছিল।
কিন্তু ক্যামিওয়ের পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনা চলাকালে পারস্পরিক প্রত্যাশা মেলাতে ব্যর্থতা দেখা দেয়। প্রযোজকরা সীমিত বাজেটের মধ্যে কাজ করতে চেয়েছিলেন, আর মোহনলাল তার স্বাভাবিক ফি কাঠামো বজায় রাখতে চেয়েছিলেন।
ফলস্বরূপ, মোহনলাল ক্যামিও থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তটি চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা ও শুটিং সময়সূচিতে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রযোজনা দল এই বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে যে ক্যামিওয়ের অনুপস্থিতি ছবির কিছু দৃশ্য পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং নতুন বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে। তবে তারা ছবির মূল কাহিনী ও চিরঞ্জীবির পারফরম্যান্সে কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনা তেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পের আর্থিক চ্যালেঞ্জকে আবারও উন্মোচিত করেছে। বড় তারকার অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ফি এবং সীমিত বাজেটের মধ্যে সমন্বয় করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় তারকার ক্যামিও তেলুগু সিনেমায় প্রায়শই দর্শকের আকর্ষণ বাড়ায় এবং বক্স অফিসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা এই প্রচলনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
চিরঞ্জীবি এবং ববির দল এখন নতুন ক্যামিও পরিকল্পনা বা বিকল্প কাস্টিংয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে শুটিং সময়সূচি বজায় থাকে। শিল্পের অন্যান্য প্রযোজকও একই ধরনের আর্থিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে উদ্যোগী।
সামগ্রিকভাবে, মোহনলালের প্রত্যাহার তেলুগু চলচ্চিত্রের আর্থিক বাস্তবতা এবং বড় তারকার অংশগ্রহণের জটিলতা উভয়ই প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও তারকাদের ফি নিয়ে স্পষ্ট নীতি গড়ে তোলা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



