যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান ৯ জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার পাব্বি শহরে ‘অনুপ্রাণিত গ্যাম্বিট ২০২৬’ নামের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া চালু করেছে। দুই সপ্তাহের এই সামরিক অনুশীলনটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং ও ইন্টার-সার্ভিসেস পাব্লিক রিলেশনস (আইএসপিআর) উভয়ের সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। মহড়ার মূল লক্ষ্য হল উভয় দেশের পেশাদার কন্টিনজেন্টদের সমন্বিতভাবে সন্ত্রাসী হুমকির মোকাবিলা করা।
মহড়াটি পাকিস্তানের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র (এনসিটিসি) অবস্থিত পাব্বি তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিটগুলো অংশগ্রহণ করছে। আইএসপিআরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অনুশীলনটি শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এবং এতে উভয় দেশের কৌশলগত পরিকল্পনা, গোয়েন্দা শেয়ারিং এবং যৌথ অপারেশনাল প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই ধরনের যৌথ মহড়া পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে ‘অনুপ্রাণিত গ্যাম্বিট ২০২৬’ বিশেষভাবে সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেয়। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই মহড়া অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে সমর্থন করে।
অঞ্চলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই প্রশিক্ষণভূমি কাবুলের নিকটবর্তী সীমান্তের কাছাকাছি, যেখানে অতীতে তালি বান, তালিবান ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দেখা গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই মহড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের গতি ধীর করার পাশাপাশি তথ্য শেয়ারিং ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কূটনৈতিক দিক থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি উচ্চস্তরের বৈঠক আয়োজনের কথা জানিয়েছে। এই বৈঠকে উভয় দেশের কূটনীতিকরা সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রশিক্ষণ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “এই মহড়া কেবল সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে।”
মহড়ার সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম সপ্তাহে যৌথ পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণ, দ্বিতীয় সপ্তাহে বাস্তবিক প্রশিক্ষণ ও সিমুলেশন চালানো হবে। প্রশিক্ষণের শেষে একটি সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং জানিয়েছে, মহড়ার শেষে উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি সমাপনী সমাবেশ হবে, যেখানে প্রশিক্ষণের সাফল্য ও পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে এই মহড়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সমন্বিত প্রচেষ্টা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্য এশিয়ার জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে, এই ধরনের যৌথ প্রশিক্ষণ অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভবিষ্যৎ মাইলস্টোনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, মহড়া শেষ হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পরিকল্পনা, যেখানে প্রশিক্ষণের ফলাফল ও পরবর্তী সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরা হবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘অনুপ্রাণিত গ্যাম্বিট ২০২৬’ মহড়া যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এটি সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে সমর্থন করে, যা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কূটনৈতিক সংলাপের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



