22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমধ্যপ্রদেশের ক্যান্সার গবেষণা প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

মধ্যপ্রদেশের ক্যান্সার গবেষণা প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে অবস্থিত নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে ২০১১ সালে শুরু হওয়া ক্যান্সার গবেষণা প্রকল্পে সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পে মোট সাড়ে তিন কোটি রুপি বরাদ্দ করলেও দশ বছরেরও বেশি সময়ে কোনো স্পষ্ট ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল গরুর বর্জ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের সমন্বয়ে ক্যান্সারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা। তবে সময়ের অতিক্রমের পরেও গবেষণার কোনো দৃশ্যমান সাফল্য রেকর্ড করা যায়নি, ফলে তহবিলের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত কালেক্টরের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় নথি পর্যালোচনা করে একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

প্রতিবেদন অনুসারে, গরুর গোবর ও গোমূত্রসহ সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল ক্রয়ের নামে প্রায় এক কোটি বয়ানবিরান রুপি ব্যয় হয়েছে। তবে একই উপকরণের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ পনেরো থেকে বিশ লাখ রুপি হওয়া উচিত, যা প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে বড় পার্থক্য নির্দেশ করে।

তদুপরি, গবেষণার নামে দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। এই ভ্রমণগুলো কোনো স্পষ্ট গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে অনুমান করা হচ্ছে।

গবেষণা প্রকল্পের আওতায় একটি গাড়ি বাজেটের বাইরে সাড়ে সাত লাখ রুপিতে ক্রয় করা হয়েছে। গাড়ির বর্তমান অবস্থান ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি, যা আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

কৃষক প্রশিক্ষণের নামে ব্যয় দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের অভাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রকৃত পরিধি ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়নি।

অধিকন্তু, অফিসের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় প্রকল্পের মূল গবেষণা কাজকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে তদন্ত কমিটি মন্তব্য করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব অভিযোগ অস্বীকার করে, দাবি করে যে প্রতিটি ক্রয় সরকারি নিয়ম মেনে এবং নিয়মিত অডিটের আওতায় হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে তহবিলের ব্যবহার স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে।

তদন্তের ফলাফল ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা যায়। কমিশনারের পর্যালোচনার পরে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে, প্রকল্পের আর্থিক দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। আদালতে মামলার শোনার তারিখ নির্ধারিত হলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এই ঘটনা সরকারি গবেষণা প্রকল্পে তহবিলের ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর্থিক তদারকি শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments