28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশ ওআইসি বৈঠকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে

বাংলাদেশ ওআইসি বৈঠকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে

বাংলাদেশ আজ জেদ্দার অনুষ্ঠিত অস্বাভাবিক ওআইসি (ইসলামিক কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন) বৈদেশিক মন্ত্রীদের বৈঠকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনরায় প্রকাশ করেছে। বিদেশি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বৈঠকের সময় ইসরায়েল কর্তৃক স্বীকৃত “সোমালিল্যান্ড”কে কঠোরভাবে নিন্দা করার এবং সোমালিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার জন্য ওআইসির সর্বোচ্চ স্তরে সমর্থন দাবি করেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন যে, ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব অচল এবং কোনো অবৈধ পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন এবং বহুপাক্ষিকতা একতরফা চাপ ও জোরপূর্বক পদক্ষেপের ওপর অগ্রাধিকার পাবে। এসব কথা বলার পটভূমি ছিল ইসরায়েলের সাম্প্রতিক স্বীকৃতি, যা সোমালিয়ার ঐক্য ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার জন্য হুমকি স্বরূপ বিবেচিত হচ্ছে।

এই বৈঠকটি ওআইসির ২২য় অস্বাভাবিক সেশন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইসরায়েলের “সোমালিল্যান্ড” স্বীকৃতির ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেশনের মূল লক্ষ্য ছিল সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসন রক্ষা, সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং সামগ্রিকভাবে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যকে শক্তিশালী করা।

বৈঠকের পূর্বে একই দিনে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ওআইসির বহু সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই সভায় সামগ্রিকভাবে প্যালেস্টাইনের জনগণের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং প্যালেস্টাইন বিষয়কে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ওআইসির সকল সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং কোনো একতরফা স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের স্বীকৃতি শুধু সোমালিয়ার নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের স্বার্থের ক্ষতি করে এবং তাই তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

ওআইসির ২২য় সেশনের আলোচনায় অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও সমজাতীয় মত প্রকাশ করেন, যা সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলের unilateral পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়ানোর সংকেত দেয়। বৈঠকের শেষে ওআইসি পুনরায় প্যালেস্টাইন বিষয়কে তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রাখার এবং সকল সদস্যের সংহতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার নীতি-নির্ধারণের ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে, যেখানে দেশটি সর্বদা আন্তর্জাতিক আইন, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং বহুপাক্ষিক সমাধানের পক্ষে সুর তুলে ধরে। তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভবিষ্যতে ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে একত্রে কাজ করে কোনো একতরফা স্বীকৃতি বা জোরপূর্বক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নীতি গঠন করতে হবে।

এই বৈঠকের ফলস্বরূপ, ওআইসি সদস্য দেশগুলো ইসরায়েলের স্বীকৃতিকে অবৈধ বলে গণ্য করে এবং সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য যৌথ পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। এছাড়া, প্যালেস্টাইনের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখার জন্য নতুন উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি বৈঠকে বাংলাদেশ তৌহিদ হোসেনের মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলের “সোমালিল্যান্ড” স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা কঠোরভাবে নিন্দা করা হবে। দেশটি ওআইসির সমষ্টিগত সংকল্পের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ সমর্থন প্রদান করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments