ডিজিটাল১৮ মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি পাবলিক নোটিশ প্রকাশ করে ওমি গড (OMG) ফ্র্যাঞ্চাইজের উপর তার সম্পূর্ণ মালিকানা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করেছে। নোটিশটি অটুল মোহন পরিচালিত ‘কমপ্লিট সিনেমা’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় এবং সকল প্রযোজনা সংস্থা, বিজ্ঞাপনদাতা ও বিতরণকারীকে স্পষ্টভাবে জানায় যে, ওমি গড ২ (২০২৩) ভিত্তিক কোনো সিক্যুয়েল, প্রিক্যুয়েল, স্পিন‑অফ বা অন্যান্য ডেরিভেটিভ তৈরি, প্রচার বা বাজারে আনা যাবে না, যদি না ডিজিটাল১৮ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওমি গড ফ্র্যাঞ্চাইজের অধিকার ডিজিটাল১৮ের কাছে বৈধভাবে নিবন্ধিত এবং এই অধিকার রক্ষার জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকাশের পর থেকে শিল্পের বিভিন্ন স্তরে এই ঘোষণার প্রতি তীব্র দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে, কারণ ওমি গড সিরিজটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং বহু সিক্যুয়েল পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায়।
ওমি গড ২, যা ২০২৩ সালে মুক্তি পায়, মূলত হিন্দু ধর্মীয় উপাদানকে আধুনিক কমেডি ও সামাজিক মন্তব্যের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি একটি চলচ্চিত্র। এই ছবিটি প্রথম অংশের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দর্শকদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেয়েছিল এবং বাণিজ্যিকভাবে মুনাফা অর্জন করেছিল। ফলে, ফ্র্যাঞ্চাইজের সম্ভাব্য সিক্যুয়েল বা স্পিন‑অফের জন্য বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করছিল।
ডিজিটাল১৮ের নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগে ওমি গড ২‑এর ধারাবাহিকতা, পূর্বকাহিনি বা সংশ্লিষ্ট কোনো গল্পের বিকাশের জন্য পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন না পেলে সংশ্লিষ্ট কাজকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের সতর্কতা ফ্র্যাঞ্চাইজের বৌদ্ধিক সম্পত্তি রক্ষার জন্য সাধারণ প্রথা, তবে এই ক্ষেত্রে প্রকাশের সময়সীমা ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
শিল্পের অভ্যন্তরে এই নোটিশের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু প্রযোজনা সংস্থা নোটিশকে স্বাভাবিক আইনি পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করেছে, অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক ফ্র্যাঞ্চাইজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনুমান করে বলেছেন যে, এই ধরনের কঠোর সীমাবদ্ধতা নতুন সৃষ্টিকর্তাদের সৃজনশীলতা সীমিত করতে পারে। তবু, অধিকাংশেই সম্মত যে, ফ্র্যাঞ্চাইজের স্বত্বাধিকারী হিসেবে ডিজিটাল১৮ের অধিকার রক্ষা করা স্বাভাবিক।
এই নোটিশের প্রকাশের ফলে ওমি গড ফ্র্যাঞ্চাইজের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য প্রকল্পগুলোর সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। যদি কোনো স্টুডিও ইতিমধ্যে সিক্যুয়েল বা স্পিন‑অফের স্ক্রিপ্ট প্রস্তুত করে থাকে, তবে তারা এখন ডিজিটাল১৮ের কাছ থেকে লিখিত অনুমোদন চাওয়ার প্রয়োজন হবে। অনুমোদন না পেলে প্রকল্পটি স্থগিত বা বাতিল হতে পারে, যা বিনিয়োগকারী ও অভিনেতাদের জন্য আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডিজিটাল১৮ের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট যোগাযোগের ঠিকানা ও ইমেল প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, কোনো প্রস্তাবনা বা প্রশ্নের জন্য সরাসরি এই ঠিকানায় লিখিতভাবে যোগাযোগ করবে। নোটিশের শর্তাবলী অনুসরণ না করলে আইনি দায়িত্বের মুখোমুখি হতে হবে, যা শিল্পের জন্য একটি সতর্কতা স্বরূপ।
প্রকাশের পর থেকে নোটিশটি অনলাইন ও প্রিন্ট উভয় মাধ্যমেই ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আলোচনার বিষয় হয়েছে। শিল্পের অভ্যন্তরে এই ধরনের স্বত্ব সংরক্ষণকে ভবিষ্যতে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজের জন্য একটি মডেল হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে, এটি প্রযোজনা সংস্থাগুলোর জন্য পূর্ব পরিকল্পনা ও আইনি পরামর্শের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে।
ডিজিটাল১৮ মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের এই পদক্ষেপের পর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সম্ভাব্য সহযোগিতা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। শিল্পের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই নোটিশের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ফ্র্যাঞ্চাইজের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও সৃজনশীল দিক উভয়ই নির্ধারণ করবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে যে, এই আইনি সতর্কতা ফ্র্যাঞ্চাইজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে নাকি নতুন সৃষ্টিকর্তাদের জন্য বাধা সৃষ্টি করবে।



