৪ জানুয়ারি ঢাকা সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশের শর্তে নতুন পরিবর্তন ঘোষিত হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তথ্য অধিদপ্তর (PID) থেকে জারি করা প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডকে মূল প্রবেশের অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করলেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা পাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
PID-এর কার্ড পূর্বে সচিবালয়ের সকল মিডিয়া কর্মীর জন্য স্বীকৃত ছিল এবং কোনো অতিরিক্ত অনুমোদন ছাড়াই প্রবেশের সুবিধা দিত। তবে সরকার এখন ডিজিটাল ফরম্যাটে একটি আলাদা পাস জারি করার পরিকল্পনা করেছে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
প্রস্তাবিত পাসটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হবে এবং এটি PID কার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন পাসের মাধ্যমে প্রবেশের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে, যা সাংবাদিকদের কাজের গতি ও স্বচ্ছতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সচিবালয়ের প্রবেশের জন্য দুই ধরণের অনুমোদন প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পেশাদার সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, একাধিক অনুমোদন পত্রের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে কার্যকর হবে এবং PID কার্ডের মূল উদ্দেশ্য কীভাবে বজায় থাকবে তা স্পষ্ট নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, নতুন পাসের ডিজিটাল রূপ নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসের জন্য পরিকল্পিত। মন্ত্রণালয় ও PID-এর মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে এবং উভয় সংস্থা একমত হয়েছে যে নিরাপত্তা ও তথ্যের স্বচ্ছতা দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সচিবালয়ের মিডিয়া কেন্দ্রের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই পরিবর্তনকে নিরাপত্তা ভিত্তিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, তবে একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেছেন।
সচিবালয়ের প্রবেশে অতিরিক্ত পাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে বিশেষত সচিবালয়-ভিত্তিক রিপোর্টিং করা সাংবাদিকদের মধ্যে বিস্তৃত বিরোধ দেখা দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপটি তথ্যের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
অধিকন্তু, এই নতুন পাসের প্রয়োগের সময়সূচি এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনও স্পষ্টতা নেই। সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, পাসের ডিজিটাল সিস্টেম কীভাবে কাজ করবে, আবেদন প্রক্রিয়া কত দ্রুত হবে এবং তা কি স্বচ্ছ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করা হয়। তবে সমালোচকরা এটিকে সচিবালয়ের তথ্যপ্রবেশের সীমা সংকুচিত করার সূক্ষ্ম কৌশল হিসেবে দেখছেন।
সচিবালয়ের প্রবেশের শর্তে এই পরিবর্তন সরকারী নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরছে। ভবিষ্যতে এই পাসের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং তা সাংবাদিকতার স্বায়ত্তশাসনকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা সময়ই বলবে।
এই প্রস্তাবের পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং PID উভয়ই একত্রে একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। নির্দেশিকায় পাসের আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় নথি এবং অনুমোদনের সময়সীমা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সচিবালয়ের প্রবেশে নতুন নিরাপত্তা পাসের প্রবর্তন সরকারী নিরাপত্তা নীতি ও গণমাধ্যমের স্বতন্ত্র ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।



