ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কো রুবিওর, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শনিবার সকালে টেলিফোনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফোনালাপের সময় ইরানের সরকারবিরোধী বিশাল প্রতিবাদ, সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা এবং গাজায় শান্তি চুক্তির উদ্যোগের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে কথা বলা হয়। এই তথ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ইসরায়েল শাখার বারাতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, যেখানে তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ভিত্তিতে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানান, ইরানে সম্প্রতি ইন্টারনেট বন্ধ করা এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের খবর আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করেছে। বিশেষ করে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে তেহরানের নির্দিষ্ট, অ-সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত।
তবে, বর্তমান পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে সূত্রগুলো উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের পরামর্শদাতারা ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সম্ভাব্য পদক্ষেপের ঝুঁকি ও সুবিধা বিশ্লেষণ করছেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হল ইরানের সরকারবিরোধী প্রতিবাদকে দমন করা এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কার্যকরী পরিকল্পনা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
ফোনালাপে সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও বিশদ আলোচনা হয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামরিক পরিবর্তনগুলো ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। নেতানিয়াহু এবং রুবিওর উভয়ই সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার ফলে ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে তা নিয়ে মত বিনিময় করেছেন।
গাজা অঞ্চলের শান্তি চুক্তি উদ্যোগও আলোচনার অংশ ছিল। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান সংঘাতের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা চলমান, এবং উভয় পক্ষই গাজায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার জন্য সম্ভাব্য পথগুলো অনুসন্ধান করছেন। নেতানিয়াহু গাজা সংক্রান্ত শান্তি প্রস্তাবের বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সমর্থন সম্পর্কে রুবিওরের মতামত জানার সুযোগ পেয়েছেন।
এই ফোনালাপের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল উভয়ই ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে কৌশলগতভাবে মোকাবেলা করতে সচেষ্ট। যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন দেওয়া হয়নি, তবে তেহরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অ-সামরিক আক্রমণের সম্ভাবনা আলোচনা স্তরে রয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে বিকশিত হবে তা আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং মার্কো রুবিওরের এই ফোনালাপ ইরান, সিরিয়া এবং গাজা সংক্রান্ত বহুমুখী নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের সমন্বিত বিশ্লেষণকে প্রতিফলিত করে। উভয় দেশই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় কৌশলগত বিকল্পগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। এই আলোচনার ফলাফল কী হবে এবং তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



