গৌরনদী উপজেলায় শনিবার রাত ১১ টার কাছাকাছি এক ভ্যানচালককে গুলিবিদ্ধ করে চুরি করা হয় এবং তিনি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটি গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঞ্জু বেপারী, ৫০ বছর বয়সী, গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রশিদ বেপারীর পুত্র। তিনি স্থানীয়ভাবে ভ্যান চালিয়ে যাত্রী পরিবহন করেন এবং ওই সন্ধ্যায় এক যাত্রী নামিয়ে নিজের বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন।
রাতের প্রায় ১১ টার দিকে, মঞ্জু বেপারী তার ভ্যানটি গ্রামটির পূর্ব অংশের কাসেমাবাদ এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে তিনি যযসিন খান নামের এক গ্রামবাসীর বাড়ির সংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছান, যেখানে কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি হঠাৎ তার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
সেই ব্যক্তিরা মঞ্জু বেপারীকে গুলিবিদ্ধ করে, সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়। গুলির প্রভাবের ফলে ভ্যানচালকের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং তিনি চিৎকারের মধ্যে মাটিতে গড়িয়ে পড়েন।
মঞ্জু বেপারীর চিৎকার শোনার পর স্থানীয় কিছু বাসিন্দা দ্রুত তার দিকে এগিয়ে এসে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক টিপু সুলতান জানান, ভ্যানচালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ই তার শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং কোনো পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুলির আঘাতের তীব্রতা এবং রক্তক্ষরণের কারণে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এমন ফলাফল ঘটতে পারে।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধীর সনাক্তকরণে কাজ চলছে। বর্তমানে পুলিশ দল গ্রামাঞ্চলে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।
অপরাধের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করবে। গৌরনদী থানার কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, গুলিবিদ্ধ করে চুরি করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, ভ্যানচালকসহ রাস্তায় কাজ করা শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিবরণী অনুসারে, মঞ্জু বেপারীর পরিবার এখন শোকাহত এবং স্থানীয় সমাজের সহায়তা প্রত্যাশা করছে। পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মীরা পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



