ক্যাপসিকাম আজকের বাঙালি খাবারের তালিকায় অপরিহার্য উপাদান হিসেবে 자리 নিয়েছে; সালাদ, নুডলস এবং চাইনিজ খাবারে এর ব্যবহার বাড়ছে। দেশের মোট উৎপাদন গত চার বছরে তিন গুণের বেশি বেড়েছে, যার মধ্যে ভোলা জেলার চরের জমি সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করছে।
চাহিদার উত্থান এবং ভোলার চরম জলবায়ু এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে চরের জমিতে পলি ও জৈব পদার্থের সঞ্চয় ক্যাপসিকামের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন।
ভোলার কৃষকরা এখন ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী, কারণ বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় এবং বিক্রয় প্রক্রিয়ায় কম জটিলতা থাকে। চাহিদা স্থিতিশীল থাকায় বিক্রয় সংক্রান্ত ঝামেলা কমে, ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বীজ সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়। এস.সিআই, ব্র্যাক এবং এ.আর. মালিক সিড ক্যাপসিকামের বীজ বাজারে সরবরাহ করছে, এবং কিছু বীজ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। কৃষকরা এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বীজ কিনে উচ্চ ফলন অর্জনের চেষ্টা করছেন।
ক্যাপসিকাম চাষের মৌসুম সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। এই চার মাসের সময়ে গাছ থেকে ৭ থেকে ১০ বার পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা সম্ভব, যা কৃষকের জন্য আয় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
ভোলা সদর এলাকার চরের চাষি মো. শাহজাহান এক হেক্টরের বেশি জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে প্রায় সাত লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তিনি ১৫ লাখ টাকার বেশি বিক্রয় আয়ের প্রত্যাশা করছেন, যদিও মৌসুমের শীর্ষে প্রতি কেজি দাম ১২০ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকায় নেমে এসেছে।
মার্কিন কৃষিবিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন, ক্যাপসিকাম মূলত দক্ষিণ আমেরিকার মেক্সিকো‑পেরু অঞ্চলের স্বদেশীয় ফসল, এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। মিষ্টি বেল পেপার থেকে তীব্র ঝাল মরিচ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকারের ক্যাপসিকাম বাজারে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে ক্যাপসিকাম কখনো প্রথমবারের মতো চাষ করা হয়েছিল, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান চাহিদা এবং উৎপাদনের দ্রুত বৃদ্ধি থেকে স্পষ্ট যে, এই ফসলটি স্থানীয় কৃষি পরিসরে দ্রুতই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে ক্যাপসিকাম ভিটামিন সি, এ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা স্বাস্থ্য সচেতন গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। এই পুষ্টিকর বৈশিষ্ট্য বাজারে উচ্চ মূল্যের সমর্থন করে।
বীজ বাজারের সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ক্যাপসিকাম ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা মূল্য হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে মৌসুমের শীর্ষে দাম কমে যাওয়া দেখা যায়।
ভবিষ্যতে ক্যাপসিকামের চাহিদা স্থিতিশীল থাকবে বলে অনুমান, তবে কৃষকদের জন্য উচ্চ ফলন ও রোগ প্রতিরোধী জাতের উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে, রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে গুণগত মান ও প্যাকেজিংয়ে উন্নতি করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ক্যাপসিকামের উৎপাদন বৃদ্ধি, বীজ সরবরাহের সম্প্রসারণ এবং মূল্য পরিবর্তন ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও সুযোগ উভয়ই তৈরি করছে; সঠিক বাজার কৌশল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এই সেক্টরের টেকসই বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হবে।



