বিশ্বব্যাপী টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনো বেশ কয়েকটি লিগ চালু রয়েছে; বাংলাদেশে চলছে বিপিএল, অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ টোয়েন্টি, আর শীঘ্রই ভারতে আইপিএল ও পাকিস্তানে পিএসএল শুরু হবে। এই লিগগুলোকে সমর্থকরা প্রায়ই বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে দাবি করে, তবে কোনটি সত্যিই সবচেয়ে সমানভাবে প্রতিযোগিতামূলক, তা নির্ধারণ করা সহজ নয়।
প্রতিযোগিতার মাত্রা নির্ধারণের জন্য কোনো একক সংজ্ঞা নেই। কেউ কেউ ঘন ঘন ফলাফলের পরিবর্তন, টেবিলের শীর্ষে ওঠা-নামা এবং শেষ ওভারের অপ্রত্যাশিত ফলাফলকে মূল মানদণ্ড হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক মাঠের গুণগত মান, আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের উপস্থিতি এবং টিমের শক্তির সমতা‑কে বেশি গুরুত্ব দেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের স্বল্প ওভারের কারণে একক পারফরম্যান্স পুরো ম্যাচের দিক পরিবর্তন করতে পারে, ফলে একক সংজ্ঞা প্রয়োগ করা কঠিন।
এই জটিলতা বিবেচনা করে, ক্রিকেটের প্রাচীনতম রেকর্ড সংস্থা উইজডেন একটি পরিমাপযোগ্য দৃষ্টিকোণ থেকে লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূল্যায়ন করেছে। উইজডেনের মতে, একটি লিগকে সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলা যায় যদি ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়েরই সমান সুযোগ থাকে এবং একতরফা জয়ী দল কম দেখা যায়। অর্থাৎ, লিগের প্রতিটি ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে, কোনো দিকের অতিরিক্ত আধিপত্য না থাকে।
উইজডেনের বিশ্লেষণে ২০২৩ সালের শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) এর ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১২০.২৮, যা দশটি বিশ্লেষিত লিগের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে বোলিং স্ট্রাইক রেট ১৮.৮, যা নির্দেশ করে যে এই লিগে বোলারদের সুবিধা বেশি এবং ব্যাটিংয়ের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর। ফলস্বরূপ, শ্রীলঙ্কা লিগকে ব্যাট-বোল ভারসাম্যের দিক থেকে পিছিয়ে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিপিএলের বোলিং স্ট্রাইক রেট আইপিএলের কাছাকাছি, যা নির্দেশ করে যে বিপিএল ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মধ্যে তুলনামূলক সমতা বজায় রাখে। যদিও আইপিএল জনপ্রিয়তা, আর্থিক প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক তারকার উপস্থিতিতে শীর্ষে, তবে উইজডেনের মাপকাঠিতে এটি সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। আইপিএলের উচ্চ আর্থিক পুরস্কার ও মিডিয়া কাভারেজের পরেও, কিছু মৌসুমে ব্যাটিংয়ের আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায়, ফলে ব্যাট-বোলের ভারসাম্য কিছুটা নষ্ট হয়।
বিগ ব্যাশ এবং পিএসএলও একইভাবে বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উভয় লিগের বোলিং স্ট্রাইক রেট আইপিএল ও বিপিএলের তুলনায় সামান্য বেশি, যা নির্দেশ করে যে সেখানে বোলারদের কিছুটা সুবিধা রয়েছে, তবে ব্যাটিংয়ের গতি এখনও উচ্চ। পিএসএল-এ আন্তর্জাতিক স্তরের স্পিনার ও পেসারদের উপস্থিতি লিগকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে, তবে সামগ্রিকভাবে ব্যাট-বোলের সমতা আইপিএল ও বিপিএলের সমান নয়।
সারসংক্ষেপে, বিশ্বব্যাপী টি-টোয়েন্টি লিগের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা নির্ধারণে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের স্ট্রাইক রেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের নিম্ন ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট এবং উচ্চ বোলিং স্ট্রাইক রেট এটিকে বোলার‑অনুকূল লিগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, ফলে সামগ্রিক ভারসাম্য কম। বিপিএলের বোলিং স্ট্রাইক রেট আইপিএলের কাছাকাছি হওয়ায়, উভয় লিগই ব্যাট-বোলের সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে আইপিএল যদিও আর্থিক ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে শীর্ষে, তবে উইজডেনের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ হিসেবে স্বীকৃত হয়নি।
ভবিষ্যতে আইপিএল, পিএসএল এবং অন্যান্য লিগের মৌসুমের সূচি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, প্রতিটি লিগের ব্যাটিং ও বোলিং স্ট্রাইক রেটের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই পরিসংখ্যানগুলোই লিগের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে এবং ভক্তদের জন্য আরও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা জাগাবে।



