27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাকামালগঞ্জের গর্বধনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোডকাজের ধোঁয়া ও ধুলো শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যে ক্ষতি করছে

কামালগঞ্জের গর্বধনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোডকাজের ধোঁয়া ও ধুলো শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যে ক্ষতি করছে

মৌলভীবাজারের কামালগঞ্জ উপজেলা, নারেন্দ্রপুর গ্রামে গর্বধনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চলমান রোড নির্মাণ কাজের ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের পরিবেশ ব্যাহত এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। এই রোড প্রকল্পটি কামালগঞ্জ থেকে আদমপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং দৈনিক ভিত্তিতে কাজ চলছে।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে পিচ গলানোর জন্য আগুন জ্বালানো হচ্ছে, যা বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের ঠিক সামনে অবস্থিত। গলিত পিচ থেকে উৎপন্ন ঘন কালো ধোঁয়া, ধুলো ও ছাই বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরাসরি শ্রেণিকক্ষ, করিডোর ও শিক্ষক কক্ষে প্রবেশ করে।

শিক্ষা সময়ে এই ধোঁয়া ও ধুলো প্রবাহিত হওয়া লক্ষ্য করা গেছে; ধোঁয়া ক্লাসের জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নির্মাণস্থলে উৎপন্ন উচ্চ শব্দ শিক্ষার্থীদের মনোযোগকে প্রভাবিত করছে।

শিক্ষকগণ জানিয়েছেন যে, ধোঁয়া ও ধুলোর প্রভাবে শিক্ষার্থীরা ঘন ঘন কাশি, চোখে জ্বালা, শ্বাসকষ্ট এবং মাথা ঘোরা অনুভব করে। এমন পরিবেশে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

একজন শিক্ষক উল্লেখ করেছেন, “শ্রেণিকক্ষের দরজা ও জানালা বন্ধ করেও ধোঁয়া ও ধুলো প্রবেশ করে, ফলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছোট বয়সের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।” এই মন্তব্যটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবনতি সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

গর্বধনপুরের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম. মনজুর মউলা চৌধুরী জানান, রোডকাজের যন্ত্রপাতি বিদ্যালয়ের সামনের অংশে স্থাপন করা হয়েছে, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারকে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একজন অভিভাবক মিফতা মিয়া পরিস্থিতিকে “অমানবিক” বলে সমালোচনা করে এবং বিদ্যালয়ের সামনে থাকা নির্মাণ সামগ্রী তৎক্ষণাৎ সরিয়ে ফেলতে দাবি করেন। তিনি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত ব্যবস্থা চেয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোমা ভট্টাচার্য্য জানান, এই সমস্যাটি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল আজম ব্যাখ্যা করেন, রোডের পাশে পর্যাপ্ত খালি জায়গা না থাকায় সাময়িকভাবে এই স্থানটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্বে বিদ্যালয়টি বন্ধ ছিল এবং এখন কাজটি শেষের দিকে পৌঁছেছে; এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কামালগঞ্জের ইউনিট নোংরা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

শিক্ষা সংক্রান্ত এই ধরনের পরিবেশগত সমস্যার মোকাবিলায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মাস্ক ব্যবহার, জানালা ও দরজা সিল করা, এবং জরুরি ক্ষেত্রে বিদ্যালয়কে অস্থায়ীভাবে অন্য স্থানে স্থানান্তর করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া যায়। আপনার সন্তান কি এমন পরিবেশে পড়াশোনা করছে? যদি হ্যাঁ, তবে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের দাবি করুন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments