22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধানের মন্তব্য: ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমতল মাঠ...

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধানের মন্তব্য: ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমতল মাঠ প্রয়োজন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামকে ন্যায়সঙ্গত করতে সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সমতল মাঠের ধারণা গণতন্ত্রের মূল, যেখানে আর্থিক বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।

ইউইওএমের মূল দল ১১ সদস্যের একটি কোর টিম ইতিমধ্যে ঢাকা শহরে অবস্থান করে, এবং নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি সংগঠন, নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই পর্যায়ে মিশনের কাজ মূলত পরিবেশের সামগ্রিক মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত সংগ্রহ করা।

মিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন এবং রেফারেন্ডাম, যার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২০০ স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে উপস্থিত হবে। ইজাবস উল্লেখ করেন, এই পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউইওএমের এই মিশনকে তিনি ক্রিকেটের দর্শকের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকরা কোনো রাজনৈতিক খেলায় অংশ নেবে না, বরং ফলাফল কীভাবে অর্জিত হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং পরে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি মিশনের কাজকে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি পার্টনারশিপ হিসেবে উপস্থাপন করে।

এ পর্যন্ত মিশনের বেশিরভাগ সাক্ষাৎকার ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে মিশন এখনো তার কাজের শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। তিনি যোগ করেন, নির্বাচনের সময়সূচি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রথমবারের মতো একটি ব্যাপক উত্থানের পর রেফারেন্ডামের সঙ্গে একসাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইজাবস উল্লেখ করেন, জুলাই ২০২৪-এ ঘটে যাওয়া বৃহৎ প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী তরুণ সক্রিয় নাগরিকদের সঙ্গে মিশন ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীর সঙ্গে এই সংযোগকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের সংলাপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেন বাংলাদেশের নির্বাচনে বিশেষ আগ্রহী, তা নিয়ে ইজাবসের মন্তব্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, আজকের অস্থির আন্তর্জাতিক পরিবেশে স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক অংশীদার দেশগুলোই বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশ, তার সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দিয়ে, ইউইউর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীর দৃষ্টিকোণ থেকে, মিশনের আগমনকে স্বাগত জানানো হয়েছে, কারণ এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল এখনও পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে, যাতে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা না থাকে।

ইউইওএমের প্রধানের এই মন্তব্য ও মিশনের কার্যক্রমের সূচনা, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে মিশন আরও বিস্তৃতভাবে রাজনৈতিক দল, মিডিয়া ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে, যাতে নির্বাচনের পূর্বে ও পরে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা যায়। এই প্রতিবেদনটি নির্বাচনের ফলাফল, প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য সুপারিশ সমন্বিত হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে সহায়তা করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments